ঢাকা     রোববার   ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘টেকসই প্যাকেজিং শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগবান্ধব নীতি”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬  
‘টেকসই প্যাকেজিং শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগবান্ধব নীতি”

টেকসই প্যাকেজিং শিল্পকে দেশের নতুন সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সরকারি সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা, সহজ ব্যবসা পরিবেশ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি, সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা গেলে এই খাত ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক শিল্পের সমকক্ষ, এমনকি পোশাক খাতকেও ছাড়িয়েও যেতে পারে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সেপোজিশন (গ্যাপেক্সপো) ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

চার দিনব্যাপী দেশের বৃহত্তম গার্মেন্টস প্রযুক্তি প্রদর্শনীটি যৌথভাবে আয়োজন করে এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রা. লি. এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আইসিসিবির এক্সপো ভিলেজে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। মেলায় গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের মেশিনারি, কাঁচামাল এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করা হয়।

বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, “অর্থপাচারকারী দুর্নীতিবাজরা ব্যবসায়ী সেজে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের টাকা লুট করতে পারে না।”

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন,“আমরা এখন প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও কিছু নীতিমালা আমাদের শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এ খাতে বিনিয়োগবান্ধব নীতি দরকার।”

তিনি বলেন, “ফ্রি অব কস্ট’ (এফওসি) আমদানির সুবিধা ১০০ শতাংশ করা হলে সব পণ্য বাইরে থেকে আসবে, ফলে দেশীয় কারখানাগুলো টিকবে না। আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে হবে এবং বন্দরের অতিরিক্ত কর ও লেভি কমিয়ে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “এই সেক্টরের উদ্যম ও সক্ষমতা দেখে আমি আশাবাদী। গত অর্থবছরে প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সঠিক সুযোগ পেলে এ খাত ভবিষ্যতে পোশাক খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “এই সেক্টরটি বাংলাদেশের অন্যতম আন্ডাররেটেড সেক্টর হলেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত। কাঁচামাল আমদানি করে উল্টো রপ্তানি করা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ করে।আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য গত এক বছর খারাপ অবস্থায় গেছে। আমাদের আগামীতে একটি স্থিতিশীল ও বিদেশিদের কাছে আস্থাভাজন গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন, যাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়।”

ইপিবি পরিচালক আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন বলেন, “এবারের মেলা গত বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি সফল হয়েছে। বিশ্ববাজারে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজিং মার্কেটে আমাদের অংশ বাড়াতে পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ হিসেবে এ খাতের সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা সেমিনার করব এবং এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ডসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।”

রপ্তানি বাণিজ্যকে বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিজিএপিএমইএ অন্যান্য বছরের মতো এবারও আয়োজন করে ১৫তম গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬। চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা অনুষ্ঠিত হয় ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি।

এ বছর গ্যাপেক্সপোতে ১ হাজার ৫০০টি স্টলে বিজিএপিএমইএর সদস্যসহ দেশি-বিদেশি ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ভারত, চীন, পাকিস্তান, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো মেলায় অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজন প্রতিষ্ঠান। 

ঢাকা/নাজমুল/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়