বিটিসিএলের এমভিএনও সিম ও ট্রিপল প্লে সেবা উদ্বোধন
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) মডেলে আনলিমিটেড ট্রিপল প্লে সেবা চালু করেছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রমনায় বিটিসিএলের প্রধান কার্যালয়ে এ সেবার পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ডিজিটাল জীবনকে সহজ, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে বিটিসিএল এমভিএনও সিম ও ট্রিপল প্লে সেবার এই পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এটি একটি কনভার্জড ডিজিটাল উদ্যোগ, যেখানে ভয়েস, ডেটা ও এন্টারটেইনমেন্টকে একীভূত একটি প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিটিসিএল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, যার রয়েছে প্রায় সব ধরনের টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স ও দেশব্যাপী বিস্তৃত ফাইবার নেটওয়ার্ক। এই সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে বিটিসিএলকে নতুনভাবে রিব্র্যান্ড করে একটি আধুনিক ডিজিটাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, “ট্রিপল প্লে ধারণার মূল উদ্দেশ্য হলো—একটি সিম ও একটি সংযোগের মাধ্যমে ঘরে ও বাইরে নির্বিঘ্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। গ্রাহক ঘরে থাকলে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে এবং বাইরে থাকলে মোবাইল ডেটার মাধ্যমে একই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।”
তিনি জানান, এমভিএনও সিম, আলাপ অ্যাপ, ‘জীপন’ ব্রডব্যান্ড এবং ওটিটি কনটেন্টের সমন্বয়ে পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুরো সিস্টেমটি বিটিসিএলের নিজস্ব প্রকৌশলীদের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়েছে।
এমভিএনও ও ট্রিপল প্লে সেবা নিয়ে পরিচালিত গ্রাহক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “জরিপে প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক মোবাইল ও ব্রডব্যান্ডের যৌথ প্যাকেজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। এই সেবা বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে, সেবার মান উন্নত করবে এবং ওটিটি কনটেন্ট পাইরেসি হ্রাসে সহায়ক হবে।”
তিনি জানান, নির্বাচনের পরপরই রমনা ও গুলশান এলাকা থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে ডিভাইস সংযুক্ত কোয়াড প্লে সেবা এবং সারাদেশে ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিকভাবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করেছে বিটিসিএল।
এই সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল ও আনলিমিটেড ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া, জিপন (GPON) কানেকশন ও রাউটারসহ আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে আনলিমিটেড ভয়েস, ডেটা, ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্ট একীভূত করে ভবিষ্যতে কোয়াড প্লে সেবা প্রদান করা হবে।
বিটিসিএলের লক্ষ্য একটি আধুনিক, সমন্বিত ও গ্রাহকবান্ধব টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যা হবে সাশ্রয়ী, স্মার্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই উদ্যোগ বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিটিসিএলের এমভিএনও সেবা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা স্মার্ট ও ডিজিটালি সংযুক্ত ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরীসহ বিটিসিএল ও টেলিটকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এএএম/রফিক