ঢাকা     রোববার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৫ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

এখনো কি স্বামীর পছন্দে ভোট দেন, কী বলছেন নারীরা 

জাহাঙ্গীর আলম বকুল  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:১৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এখনো কি স্বামীর পছন্দে ভোট দেন, কী বলছেন নারীরা 

প্রতীকী ছবি (এআই তৈরি)

সাতক্ষীরা জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে রিপা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তিনি মোবাইল ফোনে গ্রামের কৃষক বাবা ও গৃহিণী মার কাছে আবদার করেন, তারা যেন মেয়ের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। সহজ-সরল বাবা-মা হাসিমুখে মেয়ের আবদারে সম্মতি দিয়েছেন।

তবে, রিপা আক্তার নিজের ভোট দিতে কারো পছন্দকে প্রাধান্য দেবেন না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, “সকলের তার পছন্দমতো ভোট দেওয়া উচিত। মা-বাবার পছন্দকে আমি সম্মান করি। বাবা-মা যদি আমার পছন্দকে গুরুত্ব না দেন, তাতে আমার খারাপ লাগবে না।”

আরো পড়ুন:

ঢাকার চাকরিজীবী নারী স্নিগ্ধা খান জানান, তার নিজের বাড়ি টাঙ্গাইল শহরে। ভোট তার পরিবারে উৎসবের মতো। পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়। সবাই খুব উপভোগ করেন। কিন্তু, পরিবারের নারী বা পুরুষ সবাই নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেন। কেউ কারো পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে জোড়াজুড়ি করেন না। 

স্নিগ্ধার শ্বশুরবাড়ির অবস্থা একেবারে ভিন্ন। গাজীপুরে বসবাস করা সেই পরিবারের সবাই কঠোর আওয়ামী লীগের সমর্থক। তারা নিজেরা তো নৌকায় ভোট দেন, আত্মীয়-স্বজনদেরও উৎসাহিত করেন। যদিও এবার তারা কেউ ভোট দিতে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর অর্ধেক নারী, সংখ্যায় প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ। ইদানিং ভোট কেন্দ্রে নারী ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়। কাস্টিং ভোটের অর্ধেক থাকে নারীর ভোট। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও ব্যতিক্রম হবে না। জয়-পরাজয়ে নারী এবং পুরুষের ভোট সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে, একটা সময় ছিল যখন ভোট কেন্দ্রে নারীর উপস্থিতি কম দেখা যেত। আবার যেসব নারী উপস্থিত হতেন, তারাও নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারতেন না। স্বামী বা পরিবারের কর্তা ব্যক্তির পছন্দ প্রাধান্য দিতেন। তবে, এখন সময় বদলেছে।

বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি (৫০.৪৩ শতাংশ) নারী। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির হার ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫০.৪১ শতাংশ। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষায় নারী অংশগ্রহণ পুরুষের থেকেও বেশি। ফলে, পুরুষের পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। 

রাইজিংবিডি ডটকমের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-বয়সের নারীদের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্টত ধারণা পাওয়া গেছে, উচ্চশিক্ষিত এবং কর্মজীবী নারীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে চান। সেখানে স্বামী বা পরিবারের কর্তা ব্যক্তির প্রভাব বিস্তার তারা পছন্দ করেন না। 

লেখিকা ও সাংবাদিক রাশিদা স্বরলিপি জোর দিয়ে বললেন, “অবশ্যই নিজের ইচ্ছায় ভোট দেব”। তিনি জানান, তার স্বামী কখনো তাকে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে অনুরোধ করেন না। 

তার সঙ্গে সুর মেলালেন দেশের স্বনামধন্য একটি কোম্পানিকে চাকরিরত তানজিনা ইভা। যদিও তিনি চাকরিগত কারণে গ্রামে ভোট দিতে যেতে পারবেন না। তবে, যদি ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন, তাহলে নিজের ইচ্ছায় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতেন।

পঞ্চগড়েও নারী ভোটারদের মধ্যে ভোট প্রদানে ব্যক্তি স্বাধীনতা নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজস্ব বিবেচনা ও পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করছেন অনেক নারী ভোটার।

একইভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহিণী, শ্রমজীবী নারী, উদ্যোক্তা, জনপ্রতিনিধিরা নারীদের নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন। তবে তারা দায়িত্বশীল, মানবিক ও নারীবান্ধব নেতৃত্ব সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সেখানকার নারী শ্রমিক মোছা. বৃষ্টি আক্তার, রাবেয়া খাতুন, সোনিয়াসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, ভোট দিতে তাদের স্বামী বা পরিবারের বয়োজেষ্ঠরা প্রভাব খাটান। কিন্তু, এসব নারী সব সময় তাদের মতামত গুরুত্ব দেন, তেমন নয়। তারা বলেন, ‘‘আমরা এমন একটি সরকার চাই, যারা নারী-পুরুষের সমান অধিকার দেবে, পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য দেবে এবং ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়বে।’’

ঢাকা হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজে পড়াশোনা করছেন ঠাকুরগাঁও শহরের বাসিন্দা জান্নাত। তরুণ এ ভোটার ভোট নিয়ে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অন্যান্য নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে চাইলেও সুষ্ঠুভাবে দিতে পারিনি, কারণ পরিস্থিতি তেমন ছিল না। এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে, তাই ভোট দিতে আগ্রহী এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চাই।’’

যার ইচ্ছায় যে প্রার্থীকে ভোট দেন না কেন, সেই প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বড় বিষয় বলে মনে করেন ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নেহা। 

নেহা বলেন, “এবার আমার জীবনের প্রথম ভোট। ইচ্ছা আছে, এবার ভোট দেব। তবে, আমি চাই এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে; যিনি আমাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করবেন। অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু, সেগুলো বাস্তবায়ন করেন না। এমন প্রার্থীকে ভোট দেব, যিনি আমাদের শিক্ষা, নারীর উন্নয়ন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করবেন।”

স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের গৃহিণী বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, ‘‘ভোট দেওয়ার বিষয়ে স্বামী বা পরিবারের কারো সিদ্ধান্ত আমার ওপর প্রভাব ফেলবে না। আমি যাকে যোগ্য মনে করব, তাকেই ভোট দেব।’’

আগে স্বামীর ইচ্ছায় ভোট দিলেও এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় এলাকার দিনমজুর মমিনুলের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৪০)। 

ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘‘আগে স্বামীর কথায় ভোট দিলেও এখন আর তেমনটা হয় না। স্বামী তার কথা বলে, কিন্তু আমি স্বাধীনভাবে ভোট দিই।’’ 

তবে, চিলমারী উপজেলার অষ্টআশির চরের মাইদুলের স্ত্রী হালিমা বেগম (২৯) স্বামীর কথায় ভোট দেন। তিনি বলেন, ‘‘ভোট নিয়ে মাথাব্যথা নেই। যার সঙ্গে সংসার করি, তার ইচ্ছায় ভোট দেই।’’ 

বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে কথা হয় নারী উদ্যোক্তা সিমু জাহানের সঙ্গে। প্রশ্ন ছিল নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনা কী? শিমু জাহান বলেন, ‘‘ভোটে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। নারীরা যেমন ব্যাপক সংখ্যায় ভোট দিচ্ছেন, তেমন অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করছেন। প্রার্থী হতে তাকে পরিবারের সমর্থন প্রয়োজন হয়। অনেক পরিবার আবার রাজনৈতিক কারণেও পরিবারের উপযুক্ত নারী সদস্যকে প্রার্থী করেন।’’ 

তবে, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী আগের চেয়ে এখন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানান তিনি।  

তিনি নির্বাচন সামনে রেখে নারীর নিরাপত্তার বিষয় সামনে আনেন। তিনি বলেন, ‘‘এত আন্দোলন-সংগ্রামের পরও কিছু আগের মতো চলছে, উল্টো নারীরা এখন নিরাপত্তা সংকটে আছে।’’ 

নারীদের নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আলাদা এজেন্ডা নেই বলে অভিযোগ করেন সিমু জাহান। তিনি বলেন, ‘‘ভোট চাইতে যারাই আসে, সবাই নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিলেও নারীদের নিয়ে আলাদা ভাবনা নেই। বিভিন্ন দলের আচরণে মনে হচ্ছে নারী ভোটারদের মূল্যায়ন নেই।’’  

নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নারী-পুরুষের সমান অধিকার, নারীর নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের প্রত্যাশা কথা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নতুন নারী ভোটাররা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ কোটি তরুণ ভোটারের অর্ধেক নারী। সেই হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি তরুণী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। এই নারীদের বেশিরভাগ শিক্ষিত। 

এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬১ জন, যা মাত্র মোট প্রার্থীর ৩.৫ শতাংশ।   

রাজশাহীর তরুণ নারী ভোটারদের বেশিরভাগ নিজেদের মতামতের ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার কথা জানিছেন। তাদের অনেকে এবার প্রথম ভোট দেবেন। তারা জানান, এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় তারা ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ও উৎসাহী। তরুণীদের মতে, শুধু আশ্বাস নয়; নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাস্তব কাজ করবেন, এমন প্রার্থীই তাদের পছন্দ। 

অনেক নারীর নিজের ইচ্ছামতো ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা পরামর্শ করে জেনে-বুঝে তারপর প্রার্থী পছন্দ করতে চান। পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার গৃহিণী রেজিনা আক্তার তাদের একজন। 

রেজিনা আক্তার জানান, তিনি ইচ্ছা করলে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। প্রার্থীদের বিষয়ে তার পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় তিনি পরামর্শ করেন। 

রেজিনা আক্তার বলেন, ‘‘ভোট প্রদানে ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকলেও পরামর্শের বিষয় আছে। কারণ, প্রার্থীদের বিষয়ে তেমন কিছুতো জানি না। বাড়িতে পরামর্শ করে যাকে ভালো মনে হবে, তাকেই ভোট দেব।’’ 

তবে, নিজের ভোট স্বাধীনভাবে দিতে পছন্দ করেন একই উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষিকা মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, ‘‘ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার। এখানে কারো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। আমার ভোট যাকে খুশি তাকেই দেব।’’ 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর ভগবতীপুর গ্রামের ভূমিহীন কৃষক আবুল হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগমের (৩৫) কাছে জানতে চাওয়া হয়, স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন কি না? তিনি বলেন, ‘‘ভোট নিয়ে আমাদের নারীদের খুব চিন্তা নেই। ভোটের আগে কোথায় ভোট দিতে হবে, সেটা স্বামী বলে দেয়। তবে, ইচ্ছা হলে যেখানে খুশি দিতে পারি।’’

প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নারী জানিয়েছেন, ভোট দেওয়া নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। পছন্দের কোনো প্রার্থী নিয়েও তারা মাথা ঘামান না। দরিদ্র পরিবারের এসব নারীর ভোট নিয়ে আগ্রহও নেই।

সুনামগঞ্জ পৌরশহরের কালিবাড়ী এলাকার চায়ের দোকানি নিলু বিশ্বাস (৪৫) বলেন, ‘‘ভোটের আগের এক মাস থেকে কত শত আশ্বাস পাই। কিন্তু, ভোট শেষে আর হদিস নাই। আমরা দিন আনি দিন খাই, তাই ভোট নিয়ে চিন্তা নাই। ভোট কেন্দ্রে যাব, তারপর সিদ্ধান্ত নেব— কোনো প্রার্থীকে ভোট দেব। 

একই সুরে কথা বলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের চর সিতাইঝাড় এলাকার দিনমজুর রশিদের স্ত্রী আয়শা বেগম। ভোট দিলেও তিনি এর কোনো উপকারিতা খুঁজে পান না। তাই, কার ইচ্ছা-অনিচ্ছায় ভোট দেবেন, তা নিয়েও ভাবেন না। 

আয়শা বেগম বলেন, ‘‘ভোট দিলেও আমাদের কেউ উপকার করে না, না দিলেও কেউ ক্ষতি করে না। ভোট দিতে হয়, তাই দেই। এখানে নিজের ইচ্ছায় বা স্বামীর ইচ্ছায় ভোট দেওয়ার কিছু নাই। চাইলে নিজের ইচ্ছাও দিতে পারি, আবার স্বামীর ইচ্ছায়ও দিতে পারি।’’

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সুনামগঞ্জের প্রতিনিধি মনোয়ার চৌধুরী, কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি বাদশা সৈকত, পঞ্চগড়ের প্রতিনিধি আবু নাঈম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মঈনুদ্দীন তালুকদার হিমেল এবং বরগুনার প্রতিনিধি ইমরান টিটু।)
 

ঢাকা/বকুল/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়