জমজমাট গুলিস্তানের ফুটপাতের বেচাকেনা
ছবি: রাইজিংবিডি
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাতজুড়ে বসেছে জমজমাট ঈদবাজার। সারা বছরই তুলনামূলক কম দামে পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার জন্য এই এলাকা পরিচিত।
তবে ঈদ ঘনিয়ে এলে সেই ফুটপাতই রূপ নেয় ব্যস্ত কেনাকাটার কেন্দ্রে, বাড়ে বেচাকেনা। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা, আর ক্রেতা টানতে বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
‘একশ টাকায় নিয়ে যান’, ‘দেখে যান, পছন্দ হলে নিন’—এমন ডাক শোনা যায় একের পর এক দোকান থেকে। ফুটপাতজুড়ে সাজানো রয়েছে পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি, লুঙ্গি, জুতা, ব্যাগ, টুপি, আতরসহ নানা পণ্য। মূলত সীমিত আয়ের মানুষ কম দামে ঈদের পোশাক কিনতে এসব দোকানে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিস্তান মোড়, বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশ, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাত এবং গোলাপ শাহ মাজার এলাকার পাশে অস্থায়ী দোকানের সারি। অনেক বিক্রেতা মাটিতে কাপড় বিছিয়ে পণ্য সাজিয়েছেন, আবার কেউ কেউ অস্থায়ী স্ট্যান্ড বানিয়ে পোশাক ঝুলিয়ে রেখেছেন। সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
এখানে পোশাকের দামও তুলনামূলক কম। বিক্রেতারা জানান, পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, শার্ট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। জিন্স প্যান্ট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং টি-শার্ট ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লুঙ্গি ২০০ থেকে ৬০০ টাকা,জুতা বিভিন্ন মানভেদে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শিশুদের পোশাক ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।দরদাম করে অনেক সময় আরো কম দামেও কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে পাঞ্জাবি বিক্রি করছেন পলাশ হোসেন।তিনি বলেন, “আমরা গত দশ বছর ধরে ঈদ আসলে এখানে পাঞ্জাবি বিক্রি করি।এবার একদাম ৫০০ টাকায় প্রতিটি পাঞ্জাবি বিক্রি করছি।আগামী সাপ্তাহ থেকে বিক্রি আরো বাড়বে বলে।”
গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাতে শার্ট বিক্রি করছেন মোজাফফর মিয়া। তিনি বলেন, “ঈদ সামনে আসায় গত কয়েকদিন ধরে বিক্রি বেড়েছে। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভালোই ক্রেতা আসে। অনেকেই অফিস শেষে এখানে এসে কেনাকাটা করেন।”
বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায় প্যান্ট বিক্রি করা বিক্রেতা নিজামউদ্দিন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো মনে হচ্ছে। ক্রেতারা আসছেন আমরা সামান্য লাভে বিক্রি করছি।”
যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে কেনাকাটা করতে আসা আব্দুল করিম বলেন, “ছেলের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। মার্কেটের তুলনায় এখানে দাম অনেক কম।আমাদের মতো মানুষের জন্য এখানে সাধ্যের মধ্যে কেনাকাটা করা যায়।”
আজিমপুর থেকে আসা সজীব হোসেন বলেন, “ঈদে পরিবারের জন্য কিছু কিনতেই হয়। বড় শপিংমলে গেলে খরচ অনেক বেশি হয়ে যায়। কিন্তু এখানে দরাদরি করে কম দামে কাপড় পাওয়া যায়।”
ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের যত দিন ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতার ভিড় ততই বাড়বে। বিশেষ করে ঈদের আগের দুই-তিন দিন ফুটপাতের এসব দোকানে ভিড় দেখা যায়।” শেষ মুহূর্তে আরো ভালো বিক্রির আশা করছেন তারা।
ঢাকা/এমএসবি/এসবি