ঢাকা     শুক্রবার   ২০ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৭ ১৪৩২ || ৩০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদের আগে মাংসের বাজারে আগুন, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৮, ২০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৯:৪৩, ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদের আগে মাংসের বাজারে আগুন, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে যখন সারাদেশে উৎসবের আমেজ, তখন রাজধানীর বাজারে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে ঈদের আগের দিন বাজারে মাংসের দামে যেন আগুন লেগেছে। হঠাৎ সব ধরনের মাংসের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে নিম্নআয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী, গোরান, মালিবাগ ও রামপুরা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মাংসই বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ কম থাকায় এই দাম বাড়ছে।

আরো পড়ুন:

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল প্রায় ৭৮০ টাকা। কিছু কিছু দোকানে তুলনামূলক কম দামে ৮২০ টাকায়ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। খাসির মাংসের দাম আরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২১০ টাকা। সোনালী মুরগির দাম বেড়ে ৪২০ টাকায় উঠেছে, যদিও কোথাও কোথাও ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকায়, যা আগের তুলনায় ২০ টাকা বেশি।

বলা চলে রোজার ঈদ উপল‌ক্ষে অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় মাংসের দাম অনেক বেড়েছে। এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু দোকানে মূল্য তালিকা টানানো থাকলেও অনেক জায়গায় তা নেই। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে দামের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মাংসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু সেই অনুযায়ী সরবরাহ বাড়েনি। এছাড়া পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। আবার অনেক বিক্রেতা জানান, জ্বালানি তেলের সংকট এখনো পুরোপুরি না কাটায় পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এতে গরু ঢাকায় আনতে কিছুটা খরচ বেড়েছে। ফলে এর প্রভাব মাংসের দামে পড়েছে।

গোরান এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, “অনেক জায়গায় ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আমরা ৮২০ টাকায় দিচ্ছি। চাহিদা বেশি, তাই একটু দাম বাড়তি।”

মালিবাগের এক মাংস বিক্রেতা জানান, “গরু কিনতেই এখন বেশি টাকা লাগছে। সেই দামে কিনে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না।”

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই ঈদের আগে একই চিত্র দেখা যায়। তাদের মতে, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়ান।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “ঈদ মানেই মাংসের চাহিদা বেশি থাকবে, এটা সবাই জানে। কিন্তু প্রতি বছর এভাবে দাম বাড়ানো ঠিক না। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে, ঈদের আনন্দের প্রস্তুতির মাঝেই বাড়তি দামের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।

ঢাকা/এনটি/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়