কোয়েস্টে এলআর গ্লোবালের বিনিয়োগ, বিএসইসির সম্পৃক্ততা তদন্তে কমিটি
ইনসেটে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম
পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কোয়েস্ট বিডিসি পিএলসিতে নিয়ম ভেঙে ৬৮ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। এ নিয়মবহির্ভূত বিনিয়োগের ঘটনায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দুইটি বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি-না তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির প্রশাসন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির চিফ একাউন্ট্যান্ট কামরুল আনাম খান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী।
এর আগে নিয়ম ভেঙে কোম্পানিটিতে এলআর গ্লোবাল ৬ মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করায় ৬ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। এছাড়া, বিনিয়োগের আড়ালে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে দুদকের কাছেও পাঠানো হয়েছে সকল তথ্য।
বিএসইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসির অনুসন্ধান কমিটির দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কোয়েস্ট বিডিসির অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন এসআরএমআইসি এবং সিআই বিভাগের কর্মচারীরা কোন ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি-না তা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য মতে, স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ড হতে তালিকাচ্যুত হয়ে পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেড নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কোয়েষ্ট বিডিসি। সেই বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগের জন্য সুযোগ করে দেয় বিএসইসির কর্মকর্তারা। সেই সত্যতা যাচাইয়ে বিএসইসির এসআরএমআইসি ও সিআই বিভাগের কর্মচারীরা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত ছিল কি-না সেটা চিহ্নিত করবে গঠিত তদন্ত কমিটি।
পুঁজিবাজারের ওটিসি মার্কেটের কোয়েস্ট বিডিসিতে এলআর গ্লোবালের ৬ ফান্ড থেকে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা নিয়ম ভেঙ্গে বিনিয়োগ করা হয়। এজন্য কমিশনের ৯৭৮ তম সভায় ৬ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। পাশাপাশি বিনিয়োগকৃত অর্থ সুদসহ ৯০ কোটি টাকা ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।
সেই সঙ্গে এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম রুবাইয়াত, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামসহ নিরীক্ষক ও যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া, কোয়েস্ট বিডিসি থেকে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খায়রো কেয়ারের হস্তান্তরিত হয়, যা মানিলন্ডারিং হয়েছে বলে ব্যবস্থা নিতে দুদকে তথ্য পাঠায় বিএসইসি।
মূলত এলআর গ্লোবাল পদ্মা প্রিন্টার্সের ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়ে নাম পরিবর্তন করে। এতে প্রথম দফায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। বিএসইসি জানায় যে, এই বিনিয়োগ করার সময় ট্রাস্টি বা কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার পরিপন্থি। শেয়ারপ্রতি মাত্র ১০ টাকা মূল্যের শেয়ার ১৫.৮৮ টাকায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ২৮৯.৪৮ টাকায় কেনা হয়, যা ছিল অস্বাভাবিক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের প্রধান ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, “এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যেসব কর্মকর্তা বিগত এবং বর্তমান সময় জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হয় তা দিতে হবে। বিশেষ করে দৃষ্টান্তমূলক যদি কোনো শাস্তি দেওয়া যায় তবে পুঁজিবাজারে যে আস্থাহীনতা রয়েছে তা অনেকটাই কমে আসবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের এ ধরনের দুর্নীতির কারণে পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে তলানিতে রয়েছে।”
ঢাকা/এনটি/ইভা