ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ‘অযৌক্তিক’, দাবি শিক্ষকদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৯ ৯:০৫:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৯ ৯:০৫:৫৬ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট’ বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে করা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন বিভাগের শিক্ষকেরা।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে বিভাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা এই দাবি করেন। তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের সিলেবাসের সঙ্গে তাদের সিলেবাসের মিল রয়েছে মাত্র ২০ দশমিক ৩ শতাংশ। তাই বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার সুযোগ নেই।

এদিকে, ঢাবির ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের সঙ্গে রাবির পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের তুলনা দেখিয়ে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৩২টি কোর্সে মোট ১৪০ ক্রেডিট পড়ে থাকে। এর মধ্যে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে ১০১ ক্রেডিট পড়ানো হয়; যা ফলিত পরিসংখ্যান বিষয়ের সঙ্গে ৭২ দশমিক ১৪ শতাংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের মোট ক্রেডিট ১৬০। যার মধ্যে তত্ত্বীয় ১২৮, ব্যবহারিক ২৪ ও মৌখিক ৮। তত্ত্বীয় ক্রেডিটের ৬৪ ক্রেডিট পপুলেশন সায়েন্স, ১৬ ক্রেডিট হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ২০ ক্রেডিট পরিসংখ্যান এবং বাকি ক্রেডিটগুলো সাবজেক্ট রিলেটেড। ঢাবির ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের সিলেবাসের সঙ্গে রাবির পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সিলেবাসের মাত্র ২০ দশমিক ৩ শতাংশ মিল রয়েছে। তাই বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবির যৌক্তিকতা নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম খান বলেন, সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে সিলেবাস প্রণয়ন করেন বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষার্থীরা যে ৭২ শতাংশ মিলের কথা বলছেন, সেই হিসাব তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের কোথাও ভুল হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগের নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা বিষয়ে জরুরি সভার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রাবি উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অনশন স্থগিতের আহ্বান জানান। এরপরও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। টানা ৬৩ ঘণ্টা অনশনের পর শুক্রবার মধ্যরাতে সভার সিদ্ধান্ত হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, নুরুজ্জামান হক, আব্দুল গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পিএসসি-তে বিষয়কোড অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার অবস্থান, মানববন্ধন, মিছিল কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবি করে সেই কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন তারা।


রাবি/সাইফুর রহমান/বকুল