ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ সফর ১৪৪২

যে তিন কারণে অনলাইনে এইচএসসির ভর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৯, ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
যে তিন কারণে অনলাইনে এইচএসসির ভর্তি

শিক্ষার্থীরা ভর্তির প্রক্রিয়া করছেন অনলাইনে-ফাইল ছবি

শুরু হয়েছে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির কার্যক্রম। চলবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এবারের ভর্তি কার্যক্রম পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর। এর আগে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম চলতো। কিন্তু এবার কেন অনলাইন প্রক্রিয়ায় আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো, সে বিষয়ে কথা হয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে।

তিনি রাইজিংবিডিকে জানান, মূলত ৩ কারণে তারা এসএমএস-এর পরিবর্তে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রথমত, অনলাইন কার্যক্রমের প্রচুর টাকা বেঁচে যায়। এসএমএস আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে ১২০ টাকা করে পাঁচটি কলেজের জন্য কমপক্ষে ৬০০ টাকা এবং ১০টি কলেজে আবেদন করতে গেলে তাকে ১২০০ টাকা ফি দিতে হয়। অথচ একজন শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করতে গেলে মাত্র ১৫০ টাকার মধ্যে সবকটি কলেজে আবেদন করতে পারছেন। এটা তাদের জন্য বিরাট সুযোগ।

দ্বিতীয়ত, এসএমএস-এ আবেদনে অনিয়মের আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন কলেজগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রেখে দেয় এবং অটো ভর্তি করে রাখে। এতে করে ওই শিক্ষার্থীরা অন্য কলেজের জন্য এসএমএস- এর মাধ্যমে আবেদন করতে গেলে তা সাবমিট হয় না। ফিরতি এসএমএস এ দেখায় তাদের আবেদন হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।

তৃতীয়ত, এসএমএস এ আবেদন করতে গেলে অনেক জটিলতা বাড়ে। অনেকে ফিরতি এসএমএস পায় না। যার কারণে প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী বোর্ডে এসে ভিড় জমায়। যেটি শিক্ষার্থী এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষ সবার জন্যই বেশ ভোগান্তির।

এসএমএস এর পরিবর্তে অনলাইনে আবেদন করলে আবেদনটি যথাযথ হয়ে থাকে এবং শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষের ভোগান্তিও কমে বলে জানান তিনি।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের তথ্য মতে, শিক্ষার্থীদের http://www.xiclassadmission.gov.bd থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, সোনালী ব্যাংক, টেলিটক এবং রকেটের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যাবে।

জানা গেছে, একজন শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে ৫টি কলেজে পছন্দক্রম অনুসারে আবেদন করতে হবে। সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দক্রম অনুসারে আবেদন করতে পারবে। মেধা এবং পছন্দক্রম অনুসারে নির্দিষ্ট কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হবে। একাদশে ভর্তির জন্য সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবার শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। www.xiclassadmission.gov.bd এ ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১৫০ টাকা। এ ফি শিক্ষার্থীকে তার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রোল নম্বর, বোর্ড, পাসের সাল উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবে।

একাদশ শ্রেণিতে এইচএসসি ও আলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তির পুনঃনির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সূচি অনুযায়ী, ভর্তির জন্য প্রথম দফায় অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে ৯ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত।  তবে, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে অনলাইন সার্ভিস ও কল সেন্টার বন্ধ থাকবে।  প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ২৫ আগস্ট রাত ৮টায়।

শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চায়ন করতে হবে ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থী সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে প্রথম পর্যায়ের সিলেকশন এবং আবেদন বাতিল হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ ৩১ আগস্ট থেকে চলবে ২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।  পছন্দক্রম অনুসারে প্রথম মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ হবে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের আবদনের ফল প্রকাশ হবে একই দিন (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টায়।

দ্বিতীয় পর্যায়ের শিক্ষার্থেীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন ৫ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শিক্ষার্থী সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে দ্বিতীয় পর্যায়ের সিলেকশন এবং আবেদন বাতিল হবে।

তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ চলবে ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর। পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ হবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়।

তৃতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে ১১ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে, আর কলেজভিত্তিক চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হবে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায়। ভর্তি চলবে ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী ও বিকেএসপি কোটা বহাল থাকছে। তবে, অন্যান্য কোটা নিয়ে নীতিমালায় কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। একাদশে বিশেষ কোটা হিসেবে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, দশমিক পাঁচ শতাংশ বিকেএসপি এবং দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবাসী কোটা বহাল থাকছে।  প্রবাসীদের সন্তান ভর্তির বিষয়ে সরাসরি বোর্ডে আবেদন করতে হবে।

এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের বাংলা মাধ্যম ভর্তির জন্য ৯ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমের ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা।

সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি করা যাবে না।  প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রসিদ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  এছাড়া মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে ২ হাজার টাকা, ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না।

ইয়ামিন/এসএম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়