ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭ ||  ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সাগর-সালমার সুখের প্রেম

21 || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৭, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  
সাগর-সালমার সুখের প্রেম

‘বিয়ের মাধ্যমে দুটি মনের মিলন হয়। দিন শেষে এই দুটি মানুষ যদি মনে করেন— এই মানুষটি তো আমার। সে যদি নেতিবাচক কথা বলেও থাকে আমাকে বলেছে। আমি তাকে ছাড়া অন্যকিছু চিন্তা করতে পারব না! একজন স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা যেমন আপন করে নেন, তেমনি স্ত্রীর নেতিবাচক বিষয়টিও আপন করে নিতে হবে। স্ত্রীর ক্ষেত্রেও তাই। আত্মঅহংকার ত্যাগ করা সম্পর্কের জন্য খুব জরুরি।’— রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে দাম্পত্য জীবনের জটিল সম্পর্ক নিয়ে কথাগুলো বলেন সংগীতশিল্পী সালমা আক্তার।

ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটের সানাউল্লাহ নূর সাগরের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন সালমা। লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ থেকে এলএলবি পড়ছেন এই সংগীতশিল্পী। পড়তে এসেই সাগরের সঙ্গে পরিচয়। সালমার ভাষায়, ‘সাগর ও আমার দুজনেরই অতীত রয়েছে। সাগর প্রথম আমাকে বলে, আপনাকে আমার ভালো লাগে! আমার পরিবারও আপনাকে খুব পছন্দ করে। এরপর দুই পরিবার আলোচনা করে বিয়ের বিষয় চূড়ান্ত করে। তবে বিয়ের আগে প্রেম করার সুযোগ হয়নি। দুজনের ভালোবাসার বন্ধন বিয়ের পর তৈরি হয়েছে।’ 

সালমা আরো বলেন, ‘দুজন দুজনকে পাগলের মতো ভালোবাসি। তেমনি সম্মানও করি। যাই করি না কেন আলোচনা করে করি। কাজও ভাগ করে নিই। যেমন: দেশের বাইরে গেলে কাগজপত্র সংক্রান্ত সব কাজ সাগর করে। ছোটবেলায় শোবিজ অঙ্গনে চলে আসার কারণে সেভাবে বন্ধুবান্ধব গড়ে ওঠেনি। এখন সাগরই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আসলে সাগরের গণ্ডিতে আমি থাকি, আমার গণ্ডিতে সাগর থাকে।’ 

সোনার মধ্যেও খাদ থাকে। ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষের জীবন। সাগরের মধ্যেও নিশ্চয়ই ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটি দিকই রয়েছে। আপনার মুখ থেকে জানতে চাই। জবাব দেয়ার আগে কিছুটা সময় নেন সালমা। তারপর ধীর কণ্ঠে বলেন, ‘সাগরের ব্যবহারে বিভাজন নেই। এটা আমার খুব ভালো লাগে। মানুষের মন ভালো না হলে তার কিছুই ভালো হয় না। সাগরের মন অনেক ভালো, সাগরের মতোই। আর ব্যক্তিজীবনে সাগর অনেক সৎ। নেতিবাচক দিক হলো— সাগর রাগ করলে চুপ করে বসে থাকে। অনন্ত ৩০-৪০ মিনিট সে চুপচাপ থাকে। এটা আমার জন্য বেদনার কারণ। মন ভীষণ খারাপ হয় তখন। যদিও এক পর্যায়ে সাগরই আমার কাছে আসে। মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘মন খারাপ করছো কেন?’ সাগর চায় না এক সেকেন্ডও আমি আপসেড থাকি।’ 

সাগর-সালমার মন এক হলেও দুজনের পেশা ভিন্ন। সালমার ঢাকার বাইরে গানের প্রোগ্রাম থাকলে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন সাগর। সালমা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার প্রোগ্রাম থাকলে ও খুব চিন্তিত থাকে। একবার আমি বলেছিলাম—এই যে মেয়েকে নিয়ে প্রোগ্রামে যাই, যদি কিছু হয়ে যায়। এ কথা শোনার পর থেকে সাগর আমাদের একা যেতে দেয় না। সাগর বলে, ‘মরলে আমরা একসাথে মরব।’

একটি সম্পর্ক গভীর ও সরল করার জন্য পরস্পরের ত্যাগ ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। খুব ছোট ছোট বিষয়ে লুকিয়ে থাকে গভীর ভালোবাসার মন্ত্র। সুযোগ পেলেই সাগরের পছন্দের খাবার রান্না করেন সালমা। এ শিল্পী বলেন, ‘এখন আমাদের খাবারের মেন্যু এক। সাগরের জন্য আমার খাবারের মেন্যুতে অনেকটা পরিবর্তন করেছি। এটা সেক্রিফাইস। কারণ আমি দেখেছি, ওর পছন্দের খবারগুলো অনেক হেলদি। তাহলে পরিবর্তন করতে অসুবিধা কোথায়?’

সাগরকে ভালোবেসে শুধু প্রিয় মানুষকেই পাননি সালমা। পেয়েছেন ভালো একটি পরিবার। সংসার জীবনে বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্ব বহুল চর্চিত বিষয়। কিন্তু সালমা সংসার জীবনে শাশুড়ি নয়, আরেকটি মা পেয়েছেন। সালমার ভাষায়, ‘আমার শাশুড়ি খুবই ভালো। রাজনীতি করার কারণে ব্যস্ততা তারও কম নয়। তারপরও আমার নিজের মা-ও এতটা সময় আমাকে দিতে পারেননি, তিনি যতটা দিচ্ছেন। আমার একজন শক্ত অভিভাবক প্রয়োজন ছিল। আমি সেটা পেয়েছি।’

দুটি মানুষের হৃদয়ের বন্ধন শক্ত হলেও লুকিয়ে থাকে অদৃশ্য কিছু ভয়। বিচ্ছেদে দারুণ ভয় সালমার। এ বন্ধন ছিঁড়তে চান না কিছুতেই। সালমা বলেন, ‘আমার কাছ থেকে সাগরকে দূরে কোথাও রাখলে নিশ্চিত থাকবেন- আমি শারীরিকভাবে অর্ধেক হয়ে যাব অথবা কিছুদিন পর মারা যাব। সাগরও আমাকে ছাড়া দূরে থাকতে পারবে না। আসলে দুজন দুজনকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না।’

 

ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়