RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৭ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘সাদেক বাচ্চু ভাইয়ের লাশ দাফনে বাধার মুখে পড়েছিলাম’

জ্যেষ্ঠ বিনোদন প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
‘সাদেক বাচ্চু ভাইয়ের লাশ দাফনে বাধার মুখে পড়েছিলাম’

সাদেক বাচ্চু

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। করোনা সংক্রমণে তার মৃত্যু হয় বলে অনেকেই তাকে শেষবারের মতো দেখতে যাননি। আবার লাশ দাফন করতে গিয়েও কয়েক দফা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তার পরিবারকে।

সাদেক বাচ্চু অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ ও সর্বশেষ মৃত্যুর পর দাফন পর্যন্ত সঙ্গে ছিলেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

এ চিত্রনায়ক রাইজিংবিডিকে বলেন—বাচ্চু ভাইকে দাফন করতে গিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। এমন বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখী আর কখনো হতে হয়নি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাচ্চু ভাই মারা যান। তাই অনেকেই হয়তো তাকে দেখতে আসতে ভয় পেয়েছেন। তার সঙ্গে আমি সার্বক্ষণিক ছিলাম। সাদেক বাচ্চু ভাইয়ের লাশ দাফনে বাধার মুখে পড়েছিলাম। যেখানেই কবর দিতে গিয়েছি সেখান থেকেই বাধা এসেছে।

তিনি আরো বলেন—বাচ্চু ভাইয়ের ছেলে-মেয়েদের খুব ইচ্ছে ছিল খিলগাঁও এলাকায় বাবার কবর দেওয়ার। কিন্তু করোনায় মারা গেছেন বলে বাধা আসে। আমরা ঠিক করি, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবীতে কবর দেব। পরবর্তীতে সোহেল শাহরিয়ার ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি নিজে চলে আসেন খিলগাঁও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব ভাইয়ের কাছে। ওনাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত বাচ্চু ভাইয়ের কবর খিলগাঁও ঝিলপার পারিবারিক কবরস্থানে হয়েছে। জানাজা থেকে কবর পর্যন্ত তারা দুইজন সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন। সোহেল শাহরিয়ার ভাই, মাহবুব ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা আমাদের শিল্পীদের সম্মান বাঁচিয়েছেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর বরেণ্য এই অভিনেতার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাত ১১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সাদেক বাচ্চুকে। ৮ সেপ্টেম্বর করোনার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

১৯৮৫ সালে ‘রামের সুমতি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন সাদেক বাচ্চু। খল-অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও শুরুটা করেছিলেন নায়ক হিসেবে। ‘সুখের সন্ধানে’ চলচ্চিত্রে প্রথম খল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। অভিনয় ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সাদেক বাচ্চু। ২০১৮ সালে ‘একটি সিনেমার গল্প’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই অভিনেতা।

ঢাকা/রাহাত সাইফুল/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়