RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৭ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কোটি মানুষের প্রার্থনা, তবুও থামছে না মৃত্যুর মিছিল

দিলীপ কুমার নাথ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:১৯, ১৬ মে ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
কোটি মানুষের প্রার্থনা, তবুও থামছে না মৃত্যুর মিছিল

পাঠক, আপনারা কি কোনো গানে, কবিতায় বা লেখায় বান্দা সৃষ্টিকর্তার মঙ্গল কামনা করছে- এমন কিছু শুনেছেন, দেখেছেন বা পড়েছেন? হিন্দি ক্ল্যাসিক ফিল্ম ‘বৈজু বাওরা’র ‘ও দুনিয়াকে রাখওয়ালে, শুন দর্দভারে মেরে নালে’ গানটিতে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।

ঈশ্বর তাঁর সৃষ্ট জীবকে আশীর্বাদ করেন, মঙ্গল প্রদান করেন। মানুষ অনন্ত, অসীম, প্রেমময় ভগবানের কাছে মঙ্গল, কল্যাণ প্রার্থনা করেন। কিন্তু ব্যতিক্রম শুনলাম এই গানে। সেখানে একজন মানুষ ভগবানের মঙ্গল কামনা করছেন। যদিও তা চরম দুঃখে, ভগবানকে এক ধরনের উপহাস করে।

গানটির কথা মনে পড়ল বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। পৃথিবীজুড়ে মানবজাতি ভীষণ বিপদে পড়েছে। বিশ্বাসীগণ সবাই নিজ নিজ স্রষ্টা, ইষ্ট দেবতার কাছে কল্যাণ, মঙ্গল কামনা করছেন, প্রার্থনা করছেন। যদি কেউ বলেন, ‘ভগবানের মার দুনিয়ার বার’ বা ‘ভগবানের লীলা বোঝা দায়’ তাহলে কিছু বলার নেই। নচেৎ যেভাবে কোটি কোটি প্রার্থনার হাত তাঁর দিকে বাড়িয়ে আছে কিন্তু তারপরও মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, তাতে বৈজু বাওরার ওই গানের মতো বলতে ইচ্ছে করছে— ভগবান, তোমার মঙ্গল হোক। 

হিন্দি রূপালি পর্দার সোনালি কণ্ঠ মোহাম্মদ রফির গাওয়া গানটি হিন্দিতে অদ্যাবধি অন্যতম জনপ্রিয় সুপারহিট গানের একটি। সিনেমার প্রথাবিরুদ্ধ হাল্কা গানের বিপরীতে ১৯৫২ সালে রাগরাগিনী-ভিত্তিক ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত-ভিত্তিক সিনেমা ‘বৈজু বাওরা’ মুক্তি পায়। পটভূমি ছিলো কিছুটা ঐতিহাসিক এবং অনেকটা জনশ্রুতির কাহিনি ও কল্পিত। সম্রাট আকবরের অন্যতম রত্ন মিয়া তানসেনের সঙ্গে এক সংগীতশিল্পীর বিরোধে তার মৃত্যু এবং পরে তার পুত্র বৈজুর প্রতিশোধ স্পৃহায় তানসেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। সঙ্গে ত্রিভুজ প্রেম, চূড়ান্তভাবে বিয়োগাত্মক ঘটনায় শেষ হয় কাহিনি। সিনেমাটি অনেক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত একটি বাদে সব গান ভারতীয় রাগরাগিনী-ভিত্তিক এবং তা সত্ত্বেও বক্স অফিস হিট! এ সিনেমায় নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে মীনাকুমারী স্থায়ী আসন গড়েন পর্দায়। ফিল্মফেয়ার বেস্ট অ্যাকট্রেস সম্মানেও ভূষিত হন। নওশাদ এ সিনেমায় সংগীত পরিচালনা ও সুরারোপ করে জীবনের একমাত্র ফিল্মফেয়ার বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর সম্মান লাভ করেন। মশহুর গীতিকার শাকিল বদায়ুনির আত্মপ্রকাশ ঘটে এই সিনেমার মাধ্যমে। মোহাম্মদ রফি প্লে-ব্যাকে তাঁর স্থায়ী এক নম্বর আসন করে নেন এই সিনেমায় গান গেয়ে।

গানটি শুনছি শৈশব থেকেই। কৈশোরে যখন শুনতাম, সিনিয়র দাদারা বলতেন, এ গানের শিল্পীর গানটির শেষ টান দিতে গিয়ে গলায় রক্তক্ষরণ হয়েছিল। বেশ প্রচলিত ছিল কথাটি।

গানটির বাংলা অর্থ: ভগবান! হে পৃথিবীর রক্ষাকর্তা, আমার দুঃখের অভিযোগ শোন, তুমি পৃথিবীকে আশা ও নিরাশা এই দুই রং দিয়ে সাজিয়েছ; তুমি নৌকার সাথে ঝড় সৃষ্টি করেছ, মিলনের সাথে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করেছ; আমি তোমার বিশ্বাসঘাতকতা দেখেছি; আমার প্রেমের শহর লুণ্ঠিত হয়ে গেছে, এখন অশ্রু ঝরাচ্ছো (সিনেমায় দেখা যায়, বৈজু যখন ভগবান শিবের সামনে গানটি গাইছে, শিবের চোখ দিয়ে অশ্রুধারা নেমে আসছে); শ্রাবণের ধারা আগুনে পরিণত হয়েছে, ফুল অঙ্গার হয়ে গেছে; সুন্দর রাত সর্পিনী হয়ে গেছে, তারারা পাথর হয়ে গেছে; আমার সমস্ত সাহায্যের স্থান হারিয়ে গেছে; হে জীবন দাতা, তুমি আমার জীবন ফেরৎ নিয়ে নাও; পাগল সূর্যচাঁদকে খোঁজে, সকালবেলা রাত্রির খোঁজ করে, আমিও সেই প্রেমিকাকে খুঁজছি যে আমার হলো না, ভগবান তোমার মঙ্গল হোক, হায় আমি ভাগ্যহত কিন্তু আশা ছাড়ি নি যদিও আমার পা ফোঁড়ায় ক্ষত-বিক্ষত; প্রাসাদ ফাঁকা আর গলিগুলো জনমানব শূন্য, দেয়াল গুলো নীরব, আমার হৃদয় ভেঙে গেছে, আমার পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে, বসম্ত গোমড়া মুখো হয়ে গেছে, আমি কীভাবে জীবন অতিবাহিত করব? ভাঙা মন্দির নতুন করে গড়া যায়, কিন্তু আমার ভাঙা হৃদয় কে জোড়া দেবে?

বি.দ্র.: লেখাটি ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত

 

ঢাকা/শান্ত/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়