ঢাকা     শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

প্রথম বিসিএস-এ প্রথম স্থান

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ২ জুলাই ২০২০  

ক্যাম্পাসে তার পরিচয়, তিনি ‘ক্যারিশমাটিক’ বিতার্কিক। ঢাকা শহরের বিভিন্ন মঞ্চে বিতর্ক করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার পর নিজেকে গবেষক হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে কাজও করেছেন। পাশাপাশি চলছিল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। এর মধ্যেই বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় সৌরভ অধিকারী প্রথম স্থান (শিক্ষা) অধিকার করেছেন। অথচ সৌরভ কখনো ভাবেননি ক্যারিয়ার হিসেবে বিসিএসকে বেছে নেবেন।

সৌরভ অধিকারীর বন্ধুরা যখন বিসিএস-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হঠাৎ করেই তার মনে হলো, একবার চেষ্টা করতে দোষ কোথায়? এই ভাবনা থেকে তিনিও বিসিএস-এর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ‘প্রথমে আমার ইচ্ছে ছিল না। তাড়াছা আমি যে চাকরি করছিলাম তাতে কষ্ট বেশি, পারিশ্রমিক কম। সাতপাঁচ ভেবে বন্ধুদের দেখাদেখি আবেদন করি ২০১৭ সালে।’

প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সৌরভ বলেন, ‘প্রথমেই আমি চাকরিটা ছেড়ে দেই। আগে থেকেই গণিত এবং ইংরেজিতে ভালো ছিলাম। অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে এটি খুবই কাজে লেগেছে।’ তবে প্রতিবন্ধকতাও কম ছিলো না। সাধারণ জ্ঞান, বাংলা সাহিত্য, ভূগোলে পিছিয়ে ছিলেন সৌরভ। সুতরাং সেই বিষয়গুলোতে জোর দেন। মাত্র ৩ মাসের প্রস্তুতি নিয়ে প্রিলিতে টিকে যাওয়ার পর তার মনোবল বেড়ে যায়। নতুন উদ্যোমে নিতে থাকেন লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি।

সৌরভ বলেন, ‘আমি ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছি। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।’

আমাদের দেশে বিসিএস সোনার হরিণ। লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার প্রতিবছর বিসিএস পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে স্বপ্নের জাল বোনেন। দরিদ্র অভিভাবকেরা অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকেন সন্তানের দিকে। সন্তান বিসিএস ক্যাডার হয়ে সংসারে সুখের দিন ফিরিয়ে আনবে, গড়বে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। 

২০১৭ সালের ২০ জুন ৩৮তম বিসিএস-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন। মোট ২ হাজার ২৪টি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪০ জন প্রার্থী আবেদন করলেও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৯ জন। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৬২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়। সবশেষে মাত্র ২২০৪ জন প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে নিয়োগের জন্য। এই পরীক্ষায় সৌরভ অধিকারী প্রথম স্থান (শিক্ষা) অধিকার করেছেন।

সৌরভ আগামীর বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গণিত এবং ইংরেজির জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। এইখা হেলাফেলা করা যাবে না। সিলেবাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। সিলেবাস ধরে প্রতিটি বিষয় পড়তে হবে।’

অনেকেই বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে সেই আলোকে প্রস্তুতি নেন। তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে না। সৌরভ বলেন, ‘রুটিন করে পড়লে একসঙ্গে দুই পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায়।’

বিসিএস যেহেতু একটি বড় এবং সম্প্রসারিত বিষয় তাই সব বিষয়ে কমবেশি জ্ঞান থাকতে হবে। সবার সব বিষয়ে জ্ঞান থাকে না। যাদের আছে তারাই এই বৃহৎ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে। এ জন্য আত্মবিশ্বাস বড় ভূমিকা রাখে জানিয়ে সৌরভ বলেন, ‘যত বড় প্রতিযোগিতা হোক, কনফিডেন্স ধরে রেখে সেভাবে পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই।’

সৌরভ অধিকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে চান। তার পরবর্তী সাধনা শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন জ্ঞানভাবনা তৈরি করা।


ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়