ঠাকুরগাঁওয়ে গোরক্ষনাথ মন্দির ও অলৌকিক কূপ
তানভীর হাসান তানু || রাইজিংবিডি.কম
ঠাকুরগাঁওয়ে গোরক্ষনাথ মন্দির ও অলৌকিক কূপ
তানভীর হাসান তানু
ঠাকুরগাঁও, ৬ ফেব্রুয়ারি : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার দেড়’শ বছরের পুরাতন গোরক্ষনাথ মন্দির হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এখনও পূজনীয়।
মন্দির এলাকায় পাথরে নির্মিত আশ্চর্য কূপ ও তার পানি মহাপবিত্র বলে তাদের কাছে বিবেচিত। প্রতিবছর এ কূপের পানিতে স্লান করে পাপ মুক্ত হতে হাজার হাজার নরনারী আসে এখানে।
রানীশংকৈলের নেকমরদ থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ‘গোরকই’ নামক স্থানে গোরক্ষনাথ মন্দির। এখানে এ মন্দির ছাড়াও আছে নাথআশ্রম। এ ছাড়াও আছে ৩টি শিবমন্দির ও ১টি কালি মন্দির।
গোরক্ষনাথ মন্দির চত্বরের ঠিক মাঝখানে। মন্দিরের পিছনেই আকর্ষনীয় সেই কূপ। পাথরের তৈরি একটি ছোট চৌবাচ্চার মাঝে ঐ কূপের অবস্থান। কূপটি বড় বড় কালো পাথরের খন্ড দ্বারা নির্মিত। কূপের একেবারে তলা পর্যন্ত পাথর দিয়ে বাঁধানো। প্রতি বছর ১৮ ফাল্গুন এ কূপের পানিতে স্লান উপলক্ষে শিবযাত্রী মেলা বসে।
কূপের পূর্ব দিকে একটি দরজা ও পশ্চিম দিকে আরেকটি দরজা। এই দরজা দিয়েই স্নানের জন্য ঢুকতে হয়। হাজার নরনারী স্লানের পরও এ কূপের পানি এক ইঞ্চিও না কমাটাই কূপের বৈশিষ্ট্য ।
মন্দিরের উত্তরে পান্থশালা। পান্থশালার দরজায় একটি ফলক বা শিলালিপি ছিল। এছাড়াও এ মন্দিরে গ্রানাইট পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। এই ফলকটি বর্তমানে দিনাজপুর যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
কথিত আছে, গোরক্ষনাথ ছিলেন নাথপন্থীদের ধর্মীয় নেতা খীননাথের শিষ্য। নবম-দশম শতাব্দির মধ্যভাগে গোরক্ষনাথের আবির্ভাব ঘটে। তিনি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এখানে মন্দির স্থাপন করেন। অলৌকিক ওই কূপটি সেই সময়ে নির্মিত।
অনেকের মতে, গোরক্ষনাথ কোন ব্যক্তির নাম নয় এটি উপাধি মাত্র।
মন্দিরের সভাপতি পশিন চন্দ্র ও সাধারন সম্পাদক রবিন চন্দ্র জানান, এ মন্দিরে প্রতিবছর শিবপূজা ও দূর্গাপূজা হয়। সরকারিভাবে যথার্থ অনুদান না পাওয়ায় এ মন্দিরটি সংস্কার করা যাচ্ছে না।
রাইজিংবিডি / টিপু
রাইজিংবিডি.কম
ঈদুল আজহায় ছুটি ৭ দিন, প্রজ্ঞাপন জারি