পাঁচ দিন পর হাসপাতাল ছাড়লেন ওবায়দুল কাদের
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
ওবায়দুল কাদের। ফাইল ফটো।
বাংলাদেশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভারতের আশ্রিত সাধারত সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পাঁচ দিন পর কলকাতার অ্যাপোলে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) কলকাতায় আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়েছে। ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না তার শরীর।
অ্যাপোলো হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১ জানুয়ারি রাতে শ্বাসকষ্টসহ ফুসফুসে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন কাদের। আগে থেকে তার কিডনিতে গুরুতর সমস্যা রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফেরারি আসামি কাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন।
সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানে খুন-গুমের অনেক মামলার আসামি ওবায়দুল কাদের। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার আসামি কাদের কলকাতার নিউ টাউনে একটি বাসায় থাকছেন। সেখানে তার অসুস্থতা খারাপ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং তাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি রাতে তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হয়। প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে কলকাতার বাইপাসের কাছে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরেই তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন না ওবায়দুল কাদের। এই অবস্থায় পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে কলকাতার নিউ টাউনের বাসায় ফিরিয়ে নিওয়া হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসকসহ লাইফ সাপোর্ট ফ্যাসালিটিতে রাখা হবে তাকে।
২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন কাদের। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ এর আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কাদেরের খোঁজ মেলেনি অনেক দিন। পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। ভারত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও হাজির হন তিনি। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি ফেরারি আসামি, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি জারি করা আছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদেরসহ সাতজনকে হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
গত ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে পলাতক আসামিরা হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের নীতি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়া কাদেরের বিরুদ্ধে। সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে মেগা প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঢাকা/সুচরিতা/রাসেল