ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

সীমান্তের গ্রামগুলোতে ৫০ রাত অবস্থানের নির্দেশ ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৭, ২১ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:১৮, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
সীমান্তের গ্রামগুলোতে ৫০ রাত অবস্থানের নির্দেশ ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের

ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর পুলিশ কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) কর্মকর্তাদের বছরে অন্তত ৫০ রাত সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তোলা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করার লক্ষ্যে এমন নির্দেশ অমিত শাহের দপ্তরের। 

বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের মতো সংবেদনশীল রাজ্যগুলোকে এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে বলেছে শাহের দপ্তর। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে ভারতের চার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ, আইটিবিপি, সশস্ত্র সীমা বল, অসম রাইফেলসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর পুলিশ প্রধানদের কাছেও এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। 

গত নভেম্বরে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে ডিজি-আইজি সম্মেলনের পরেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ভারতের দীর্ঘ কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত, সীমান্তে অবাধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতই এমন নির্দেশ জারি করেছে নর্থ ব্লক। 

কেন্দ্রের মতে, শুধু কাঁটাতার বা টহল বাড়ালেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সীমান্ত গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, আস্থা বাড়ানো এবং স্থানীয় স্তরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহই আসল চাবিকাঠি। সেই কারণেই কর্মকর্তাদের নিয়মিত রাতযাপনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগটি কেন্দ্রের ভাইব্রান্ট ভিজিলেন্ট প্রোগ্রামের একটি অংশ। ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল চালু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য—সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোকে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা।

সূত্রের খবর, ওই ৫০ দিনের সফরে কর্মকর্তারা গ্রামবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনসিসি ক্যাডেট ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের ‘সীমান্তের চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করতে উৎসাহ দেওয়া হবে, যাতে সন্দেহজনক গতিবিধি দ্রুত নজরে আসে।

সম্প্রতি দিল্লিতে ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস কর্মসূচি নিয়ে এক কর্মশালায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশের ভূমিকা শুধু নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়, সীমান্ত এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও সমান জরুরি।

নর্থ ব্লকের সূত্র বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার। নদী, চর, কাঁটাতারহীন বিস্তীর্ণ এলাকা ও ঘন জনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক টানাপোড়েন এবং মৌলবাদী শক্তির সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের।  

সুচরিতা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়