আলবার্টাকে কানাডার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ট্রাম্পের সাহায্য কামনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
আলবার্টা প্রদেশকে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা চাচ্ছে একটি গোষ্ঠীটি। ইতিমধ্যে এই গোষ্ঠীটির নেতাদের সাথে তিনবার বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা। শুক্রবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
আলবার্টা সমৃদ্ধি প্রকল্প নামে এই দলটি আলবার্টার স্বাধীনতার জন্য গণভোট আয়োজনে চাপ দিচ্ছে।
দলটির একজন নেতা এক্স-লিখেছেন, “একটি মুক্ত ও স্বাধীন আলবার্টায় রূপান্তরকে সমর্থন করার জন্য মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীর সাথে দেখা করেছেন। কোনও সমর্থন বা প্রতিশ্রুতি জানানো হয়নি।”
কিন্তু এই প্রতিবেদনগুলোকানাডায় নতুন ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কারণ কানাডা ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক এবং তার ভূখণ্ডের প্রতি হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। প্রতিবেশী প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নেতা আলবার্টান গোষ্ঠীর প্রচারণাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বাসস্থান আলবার্টা প্রদশে রকি পর্বতমালা এবং ব্যানফ ও লেক লুইসসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। এটি জ্বালানি ও কৃষি সমৃদ্ধ প্রদেশ। কানাডার মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের ৮৪ শতাংশ আসে এই প্রদেশ থেকে। বিচ্ছিন্নতাবাদী আলবার্টানরা দীর্ঘদিন ধরে অনুভব করে আসছে যে অটোয়ায় তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব ভালোভাবে করা হচ্ছে না। তাদের দাবি- জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ফেডারেল সরকারের প্রচেষ্টা আলবার্টার তেল শিল্পকে পিছিয়ে দিচ্ছে; তারা ফেডারেল করের চেয়ে বেশি অর্থ প্রদান করে এবং তাদের রক্ষণশীল মূল্যবোধগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ডানপন্থী টিভি স্টেশন রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আলবার্টা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বাভাবিক অংশীদার।’
তিনি বলেছেন, “তাদের প্রচুর সম্পদ আছে। আলবার্টার বাসিন্দারা খুবই স্বাধীন মানুষ। মানুষ সার্বভৌমত্ব চায়। তারা আমেরিকার যা আছে তা চায়।”
বেসেন্ট দাবি করেন, কানাডা আলবার্টাকে প্রশান্ত মহাসাগরে তেল পাইপলাইন তৈরি করতে দেবে না। ‘আমি মনে করি আমাদের তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দেওয়া উচিত।’
ঢাকা/শাহেদ