তুরস্কের দিকে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূমধ্যসাগরে ধ্বংস
বুধবার রাতে ইরান থেকে উৎক্ষেপিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা পেরিয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে যাওয়ার সময় ন্যাটো সেটি ধ্বংস করে, দাবি তুরস্কের।
ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে যাচ্ছিল। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোথায় লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
বুধবার (৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, “ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একটি ব্যালিস্টিক অস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা পেরিয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে আসছিল। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত তা প্রতিহত করে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।”
তারা জানায়, এতে কোনো হতাহত হয়নি। পাশাপাশি আঙ্কারা সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে, তবে সংঘাত আরো না বাড়াতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকাম ফিদান টেলিফোনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কাছে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে।
হাকাম ফিদান বলেছেন, “এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা সংঘাত আরো বিস্তৃত করতে পারে।”
তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সামাজিক জোট ন্যাটো। জোটটির মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেছেন, “ন্যাটো সব মিত্র দেশের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে, তুরস্কসহ।”
তিনি আরো বলেন, “আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে ন্যাটোর প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী রয়েছে।”
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ঘটনায় ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনো এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সব সদস্যের ওপর হামলা।
তুরস্কের ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটিটি মূলত তুর্কি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এটি তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ঘাঁটি হিসেবে পরিচালিত হয়। এখানে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্র বাহিনী অবস্থান করে।
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে এই ঘাঁটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও আকাশ সহায়তা কেন্দ্র। পরে ইরাক ও আফগানিস্তান অভিযানে এটি কার্গো হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রকে এই ঘাঁটি ব্যবহার করতে তুরস্ক অনুমতি না দিলেও ২০১৪ সাল থেকে আইএসআই-বিরোধী অভিযানে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সাইপ্রাসে আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ
বুধবার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ লারনাকা এলাকার আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তারা একটি সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে রবিবার ইরানে তৈরি একটি ড্রোন দ্বীপটিতে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে সামান্য ক্ষতি করে। সোমবার আরো দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।
আলজাজিরার প্রতিবেদক জন সারাপোলাস সাইপ্রাসের লিমাসোল থেকে তার প্রতিবেদনে জানান, বুধবার দুটি গ্রিক যুদ্ধবিমান সাইপ্রাসের আকাশসীমার ঠিক বাইরে একটি সন্দেহভাজন ড্রোন ভূপাতিত করতে উড্ডয়ন করে।
এ ছাড়া গ্রিক ফ্রিগেট জাহাজগুলো সাইপ্রাসের আশপাশের জলসীমায় টহল দিচ্ছে, যাতে গ্রিস থেকে পাঠানো দুটি জোড়া এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা যায়।
জন সারোপোলাস বলেন, গত কয়েক দিনে বড় কোনো হামলা না হলেও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। রবিবার রাতের ঘটনাই ছিল একমাত্র সরাসরি আঘাত, তবে সাইপ্রাসের দিকে আরো ড্রোন আসার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে, যাতে সেগুলো সমুদ্রের ওপরেই ভূপাতিত করা যায়।
ঢাকা/রাসেল