গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কড়াই, খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদের ডাক
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
ইরান বনাম ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে মধ্যপ্রাচ্যে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এমন অবস্থায় ভারতে একলাফে বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। ৭ মার্চ থেকে ঘরোয়া গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৬০ রুপি বাড়ানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে কলকাতায় প্রতি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হল ৯৩৯ রুপি। এমনকি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের সিলিন্ডারের দামও এক ধাক্কায় বেড়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ১১৪ রুপি ৫০ পয়সা। ফলে কলকাতায় এই সিলিন্ডারের দাম এখন দাঁড়াল ১ হাজার ৯৯৯ রুপি।
নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্তের সংসারে চাপ বাড়ল। অন্যদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারযোগ্য বাণিজ্যক সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর ফলেও সেই আমজনতার পকেটেই পরোক্ষে টান পড়তে চলেছে।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়েই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র নিশানা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির।
শনিবার কলকাতার মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, “গ্যাসের দাম ৬০ রুপি বাড়িয়েছে। তার তিন দিন আগে ৪৯ রুপি বাড়িয়েছিল। ছোট সিলিন্ডার এক হাজার রুপি হয়ে গেছে। বড় সিলিন্ডারের দাম এখন ২ হাজার ১০০ রুপি হয়ে গেছে। আবার বলা হচ্ছে ২১ দিন আগে থেকে আপনাকে বুকিং করতে হবে। তার অর্থ আপনার বাড়িতে যদি এখন গ্যাস না থাকে, এই ২১ দিন কি ওদের মাথা খাবেন? নাকি আমার মাথা খাবেন? কার মাথা খেয়ে থাকবেন? রান্না করবেন কোথায়? কেরোসিন তেলও তো নেই যে স্টোভ জ্বালাবে। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করব আগে কী করছিলেন? ঘুমাচ্ছিলেন? নাকি উপহার নিয়ে বেড়াচ্ছিলেন? গলায় মালা পড়ে বেড়াচ্ছিলেন? দেশকে বেচে দিয়ে আজকে হঠাৎ করে মনে পড়ল?”
এসময় মমতার ঘোষণা, “আগামীকাল ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস আছে। অনেক মহিলাদের ভোট কেটে দিয়েছে। গ্যাসের দাম বেড়েছে মেয়েদের ভোটের নাম কেটে দিয়েছে সংখ্যালঘু, উপজাতি, গোর্খা, রাজবংশী, মতুয়াদের নামও কেটেছে। তাই আগামীকাল মিছিল হবে। হাড়ি, কড়াই, ঘটি, হাতা, খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে। আমরা মনে করি মানব ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। সেই ধর্মকে পালন করার জন্যই আগামীকাল মা বোনেরা রাস্তায় নামবে আর প্রতিবাদ করবে। প্রয়োজনে কালো-শাড়ি পড়ুন। আমি সাদা পড়বো, আপনারা সবাই কালো পড়বেন এবং হাতে এসব জিনিসপত্র রেখে দেবেন।'”
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলা ভাগের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “গতকাল (শুক্রবার) আমি একটা টুইটে দেখলাম- নিশ্চয়ই ওই বাবুরা খাইয়েছেন- বাংলা বিহার ভাগ করে এরা নাকি কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল করবে। আরে বাংলায় হাত দিয়ে দেখ! ওদের ধান্দাবাজি হচ্ছে বাংলাটাকে ভাগ করা। আবার একটা বঙ্গভঙ্গ করা। বিহারকে একবার ভাগ করেছে। বিহার ভাগ করে ঝাড়খন্ড নামে নতুন একটি রাজ্য হয়েছে। আবার বিহারকে ভাগ করার চেষ্টা!'”
মমতার হুঁশিয়ারি, “ভোট কেটে বাংলাকে বিভাজন করা যাবে না। বাংলা লড়াই করছে করবে করতে জানে। আর বেশি কিছু করলে তোমার দিল্লির সরকার ফেলে দেব।”
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ