বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলার নিন্দা জানাল জিসিসি
জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই
বাইরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। উপসাগরীয় ৬ দেশের সহযোগিতা জোট জিসিসির মতে, বাহরাইন ও কুয়েতের বিরুদ্ধে ইরানের ক্রমাগত হামলাগুলো ‘বিপজ্জনক আগ্রাসন’, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
রবিবার (৮ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই বলেন, এই হামলাগুলো ইরানের ‘উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী মনোভাব’ প্রকাশ করে। তিনি ওই অঞ্চলে তেহরানের এই ‘জঘন্য’ হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে এই অঞ্চলকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের এই আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আলবুদাইউয়ি আরো উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা ‘সব আন্তর্জাতিক আদর্শ ও সনদের একটি চরম লঙ্ঘন’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাহরাইন ও কুয়েতের নিরাপত্তা রক্ষা, সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে জিসিসি-র সদস্যভুক্ত সব দেশ তাদের পাশে রয়েছে।
শক্তিশালী জিসিসি জোটটি উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ- সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান নিয়ে গঠিত।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার বিষয়ে ইরানের বক্তব্য হলো, এই অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে সহযোগিতা দিচ্ছে, তাই ইরান আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তেহরান একে ‘প্রতিরোধ’ বলে আখ্যায়িত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মতে, ইরান থামবে না এবং যেখান থেকে তাদের ওপর হামলা হবে, সেখানেই তারা পাল্টা আঘাত করবে।
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিও এই অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, ইরানকে এখন একটি দেশ হিসেবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েল যেসব লক্ষ্য ঘোষণা করেছে, সেগুলো আসল উদ্দেশ্য নয়। তার মতে, প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো একটি রাষ্ট্র হিসেবে ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলা। আর এই কারণেই ইরান তাদের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
ঢাকা/ফিরোজ