বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাঠ, রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়া নিয়ে কলকাতায় পুলিশ-মুসল্লি বচসা
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
ঈদের দিন নামাজকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বচসায় সাময়িক উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার একাংশ। মুসল্লিদের অভিযোগ, জলকাদার মধ্যে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, ব্যস্ত সড়ক বন্ধ করে নামাজ পড়ার কোনো অনুমতি নেই। ফলে, পানি জমে থাকলেও নির্ধারিত মাঠেই নামাজ সম্পন্ন করতে হবে।
শনিবার (২১ মার্চ) সল্টলেক সংলগ্ন বিধাননগরে এই ঘটনা ঘটে। প্রথামাফিক, সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্ক মেট্রো স্টেশনের পাশে নজরুল উদ্যানে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই মুসল্লিরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্যানে পানি জমে যায়, ফলে সেখানে নামাজ পড়া কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইমাম খুরশিদ আলম নবি প্রস্তাব দেন, নিকটবর্তী সড়কের সেতুর নিচে নামাজ পড়া হোক, যাতে জলকাদার মধ্যে বসতে না হয়। মুসল্লিরা সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে পুলিশের কাছে আবেদন জানান। তারা আশ্বাস দেন, মাত্র আধঘণ্টার জন্য রাস্তার একপাশ ব্যবহার করবেন এবং যানজট সৃষ্টি হবে না।
তবে পুলিশ জানায়, সড়কে নামাজ পড়ার কোনো সরকারি অনুমতি নেই এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রাস্তা অবরোধ করা যাবে না। মুসল্লিরা সেই নির্দেশের লিখিত প্রমাণ দেখতে চাইলে পুলিশ তা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ।
এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রায় ৭০০ মুসল্লি রাস্তায় বসে নামাজ শুরু করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেয়।
তবে নামাজ সম্পন্ন হলেও, মুসল্লিদের ক্ষোভ প্রশমিত করা যায়নি। মুসল্লিদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসন আগে থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা জানত, তবুও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ রাখা হলেও ঈদের নামাজের জন্য সামান্য সময় অনুমতি দেওয়া হয় না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বছরে একদিন আমরা জামাতে নামাজ পড়ি। সেই সুযোগটুকুতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
আরেকজন বলেন, “পূজোর সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ থাকে, তখন কোনো সমস্যা হয় না। অথচ ঈদের জন্য আধঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করতেই আপত্তি।”
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আলম বলেন, “বাংলায় এই ঘটনা এই প্রথম। এই সরকারের আমলে মুসলিমরা ধীরে ধীরে কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছে। চাকরি, শিক্ষা সবদিক থেকেই তারা আমদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে বসে আছে। শুধু আমরা নই জৈন, শিখ, খ্রিস্টান যত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আছে সবার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে এই সরকার। আমারা স্পষ্ট বুঝতে পারছি, এই সরকারের সাথে কেন্দ্রের সরকারের বড় যোগসাজোস আছে। এবার দেখবেন, অনেক মুসলমান তৃণমূল সরকারকে ভোট দেবে না।”
যদিও ইমাম খুরশিদ আলম নবি পরে বলেন, “রাস্তা অবরোধ করে নামাজ পড়া ঠিক নয়। কিন্তু মাঠে পানি জমে থাকায় আমরা বাধ্য হয়েছি বিকল্প ভাবতে। উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবুও আমরা চাই না, এই পবিত্র দিনে কোনো অশান্তি হোক।”
পশ্চিবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষা থাকলো সল্টলেক সংলগ্ন বিধাননগর বাসী। যদিও কলকাতার অন্যত্র থেকে নামাজ নিয়ে আর কোনো অভিযোগ সামনে আসেনি।
ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ