ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩১ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরান যুদ্ধের খরচ বহনে আরব দেশগুলোকে ডাকছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১০:০৩, ৩১ মার্চ ২০২৬
ইরান যুদ্ধের খরচ বহনে আরব দেশগুলোকে ডাকছেন ট্রাম্প

২২ মার্চ একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের ফ্লাইট ডেক থেকে একজন মার্কিন নৌসেনা একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার মেটাতে আরব দেশগুলোর দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব মিত্রদের এই যুদ্ধের খরচ বহনের জন্য সরাসরি আহ্বান জানাতে পারেন, যার পরিমাণ আনুমানিক কয়েক হাজার কোটি ডলার। খবর আল-জাজিরার। 

সোমবার (৩০ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই তথ্য জানান।১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, সে সময়ের মতো এবারও মিত্র দেশগুলোর এই যুদ্ধের খরচ দেওয়া উচিত কি না।

আরো পড়ুন:

জবাবে লেভিট বলেন, “আমি মনে করি এটি এমন কিছু যা করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের (আরব দেশগুলোকে) আহ্বান জানাতে বেশ আগ্রহী হবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি তার আগেই কিছু বলতে চাই না, তবে অবশ্যই এটি এমন একটি ধারণা যা তার মাথায় আছে এবং আমি মনে করি এ বিষয়ে আপনারা তার কাছ থেকে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে কুয়েত এবং বেশ কয়েকটি আরব প্রতিবেশী দেশের অনুরোধে ইরাকি আক্রমণ প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক ডজন দেশের একটি বৈশ্বিক জোটের নেতৃত্ব দিয়েছিল। বিনিময়ে আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহ এবং জার্মানি ও জাপানের মতো জোটভুক্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের খরচ মেটাতে ৫৪ বিলিয়ন ডলার (যা বর্তমান হিসেবে ১৩৪ বিলিয়ন ডলারের সমান) সংগ্রহ করেছিল।

তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল তাদের মিত্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করেই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থি ভাষ্যকার শন হ্যানিটি বলেছিলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরানকে যুদ্ধের খরচ পরিশোধের শর্ত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ইরানি নিহত হয়েছে। হ্যানিটি বলেন, “এই পুরো সামরিক অভিযানের সম্পূর্ণ খরচ মেটাতে তাদের (ইরান) অবশ্যই আমেরিকাকে তেল দিয়ে ঋণ পরিশোধে সম্মত হতে হবে।”

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরর্ণ দাবি করাকে তাদের অন্যতম শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ইতিমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানান যে, তারা এই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছেন, তবে তেহরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের হোটেল, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোসহ বেসামরিক স্থানগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে এক গোপন শুনানিতে কর্মকর্তারা কংগ্রেস সদস্যদের জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অনুমান করেছে যে, যুদ্ধের ১২তম দিনে এই ব্যয় বেড়ে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ ৩১তম দিনে গড়িয়েছে, তাই বর্তমানে এই বিল আরও অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউজ এখন ইরানের সামরিক অভিযান এবং পেন্টাগনের গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠনের জন্য কংগ্রেসের কাছে আরও অন্তত ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত সামরিক বরাদ্দ চাইছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সরাসরি ব্যয় ছাড়াও, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন-এর ট্র্যাকার অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এক গ্যালন (৩.৮ লিটার) পেট্রোলের গড় দাম ৩.৯৯ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ১ ডলারেরও বেশি।

সোমবার লেভিট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবির পুনরাবৃত্তি করেন যে, ইরানের শক্তি হ্রাস করার দীর্ঘমেয়াদী সুফল এই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সামগ্রিক বার্তাটি আমরা বারবার দিচ্ছি: এগুলো স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ এবং দামের ওঠানামা মাত্র। এর দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা হলো আমেরিকা, আমাদের সৈন্য এবং এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের প্রতি ইরানের হুমকি নির্মূল করা।”

তবে ইরানের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই তাদের ওপর প্রথমে হামলা চালানো হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলের জন্য কোনো হুমকি ছিল না।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়