ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩১ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হাম সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা জরুরি

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৪, ৩১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১০:৩৬, ৩১ মার্চ ২০২৬
হাম সম্পর্কে যেসব তথ্য জানা জরুরি

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি Morbillivirus নামের ভাইরাস দ্বারা হয় এবং খুব সহজেই একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়—এমনকি একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ রাইজিংবিডি ডটকমকে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও দ্রুত সংক্রমণশীল একটি রোগ; একজন আক্রান্ত হলে সহজেই বহুজন এতে আক্রান্ত হতে পারে।’’

আরো পড়ুন:

চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘‘ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থাকলে আশেপাশের ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই আক্রান্ত হতে পারেন।’’

বর্তমান পরিস্থিতি: চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে মার্চে তা মহামারির দিকে যাচ্ছে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো টিকাদানের ঘাটতি। কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেলে তাদের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ‘‘টিকা সাধারণত ৯ মাস বয়সে শুরু হয়, সময়ের সঙ্গে টিকার সুরক্ষা কিছুটা কমতে পারে। তাই বড় শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।দ্রুত টিকাদান জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’’

চিকিৎসকদের মতে, ‘‘সাধারণত হামে আক্রান্ত শিশু ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে কারো নিউমোনিয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে।’’

সচেতনতা, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত হলে সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই রোগ থেকে নিজেকে ও অন্যদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

হামের প্রাথমিক লক্ষণ

  • জ্বর 
  • শুকনো কাশি 
  • নাক দিয়ে পানি পড়া 
  • চোখ লাল হওয়া 
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি  

গুরুতর লক্ষণ

  • মুখের ভেতরে সাদা দাগ 
  • সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ 
  • ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা 
  • গলা ব্যথা, পেশি ব্যথা, মাথাব্যথা 

র‍্যাশ সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এ সময় জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।

কীভাবে হাম ছড়ায়?

  • কাশি, হাঁচি বা কথা বলার মাধ্যমে বাতাসে 
  • আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা 
  • খাবার বা পানি ভাগাভাগি করা 
  • হাত মেলানো বা সংস্পর্শ 

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

  • ৫ বছরের কম বয়সী শিশু 
  • ২০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি 
  • গর্ভবতী নারী 
  • যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম 
  • যেসব শিশু সময়মতো টিকা পায়নি 

এছাড়া ৩–৭ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যেও ঝুঁকি দেখা যায়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে মায়ের শরীর থেকে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা তারা পায় না।

সম্ভাব্য জটিলতা: হাম কখনো কখনো গুরুতর এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। দেখা দিতে পারে কানের সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া,  অন্ধত্ব এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় হাম হলে শিশুর অকাল জন্ম বা কম ওজন নিয়ে জন্ম হতে পারে।

চিকিৎসা
হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। সাধারণত ১০–১৪ দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে হামের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন—পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া , প্রচুর পানি পান করা এবং কুসুম গরম লবণ পানিতে গার্গল করা।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে

  • শ্বাসকষ্ট 
  • বুক ব্যথা 
  • আলোতে চোখে সমস্যা 
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া 
  • তীব্র মাথাব্যথা 
  • বিভ্রান্তি 
  • তীব্র বমি বা ডায়রিয়া 

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়