পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তায় হাতি মোতায়েন
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ১৬টি জেলায় ভোটগ্রহণ চলছে সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে। তবে এর মধ্যে ঝাড়গ্রামের লোধাশুলি এলাকায় গিয়ে গেছে, ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের পাহারায় রয়েছে একটি হাতি।
বনাঞ্চলঘেরা এই প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিবছর বুনো হাতির আক্রমণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালীন ভোটাররা যাতে বুনো হাতির আক্রমণের সম্মুখীন না হন, সেই কারণেই এই অঞ্চলের ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে বন দপ্তরের কুনকি (প্রশিক্ষিত) হাতি রামলালকে দাঁড় করিয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।
ঝাড়গ্রামে সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় চোখে পড়ছে, কোথাও লম্বা লাইন, কোথাও আবার শান্তিপূর্ণভাবে চলছে ভোটগ্রহণ। এই পরিস্থিতিতেই লোধাশুলি রেঞ্জের জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলেন রামলাল। তার আগমন ঘিরে এলাকায় বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের আজ প্রথম দফার বিধানসভা ভোট। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বুনো দাঁতাল হাতির আক্রমণ। দু’ একটি বুনো দাঁতাল হাতিকে গ্রামের কাছে পিঠে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। জিতুসোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছেই রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ভোটের কাজে আসা বাস কিংবা কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি- কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না বুনো হাতি। ফলে ভোটকর্মী ও ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
হাতির এই উপদ্রব মোকাবিলায় এবং ভোট নির্বিঘ্ন করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বন দপ্তর। হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ঐরাবত’ গাড়িসহ ১৫ জনের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অন্যান্য হাতির পালের ওপর নজর রাখতে ‘এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম’ এবং অভিজ্ঞ হুলা পার্টির সদস্যদের নিয়ে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া বুথগুলোর কর্মীদের বন দপ্তরের ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।
ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুর বন বিভাগের কয়েক শ’ কর্মী এবং ২৫টি গাড়ি বর্তমানে এই নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে। ভোট শেষে ইভিএম নিয়ে কর্মীরা নিরাপদ স্থানে না ফেরা পর্যন্ত এই বাড়তি সতর্কতা বজায় থাকবে।
ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ