ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পাকুরিয়ার প্রধান সড়কে দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী

গাজীপুর (পূর্ব) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩৬, ১৪ মে ২০২৬   আপডেট: ১২:৪৭, ১৪ মে ২০২৬
পাকুরিয়ার প্রধান সড়কে দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী

সকাল হলেই শুরু হয় অন্যরকম এক লড়াই। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী কিংবা বৃদ্ধ- সবাইকে পার হতে হয় এক যন্ত্রণার পথ। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকুরিয়া গ্রামের প্রধান সড়কটি যেন উন্নয়নের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া এক নাম।

গ্রামজুড়ে উন্নয়নের নানা চিত্র চোখে পড়লেও পাকুরিয়ার এই সড়ক যেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও বড় গর্তে জমে আছে পানি- যা বৃষ্টির দিনে পরিণত হয় চলাচলের অনুপযোগী কাদার সমুদ্রে।

স্থানীয়দের ভাষায়, “রাস্তা মানেই এখন দুর্ভোগের নাম।” রোদ থাকলে ধুলার ঝড়, আর বৃষ্টিতে কাদার রাজত্ব-এই দুইয়ের মাঝেই চলছে গ্রামটির মানুষের জীবন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কিংবা কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

গ্রামের বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছোটবেলা থেকে এই রাস্তার একই অবস্থা দেখে বড় হয়েছি। এখনো কোনো পরিবর্তন নেই। উন্নয়ন শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ।”

স্থানীয়দের দাবি, পাশের এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পাকুরিয়া বারবার অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। দ্রুত আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে টেকসই সড়ক নির্মাণই এখন তাদের একমাত্র দাবি।

এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কটির অবস্থা জানতে পেরেছেন। এটি আইডিভুক্ত কিনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তালিকাভুক্ত থাকলে এলজিইডির মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে, আর না থাকলে বিকল্পভাবে উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম কামরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাকুরিয়ার মানুষ এখন আর আশ্বাসে থেমে থাকতে চান না। তাদের চোখে এখন একটাই প্রত্যাশা- কাদামাখা এই সড়ক থেকে মুক্তি, আর একটি স্বাভাবিক চলাচলের পথ।

ঢাকা/রফিক/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়