ঢাকা     রোববার   ২৪ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩৩ || ৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গঙ্গা পানিবণ্টর চুক্তির ভবিষ্যৎ কী, যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষেও ‘বলা হলো না’

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫০, ২২ মে ২০২৬   আপডেট: ০১:০৬, ২৩ মে ২০২৬
গঙ্গা পানিবণ্টর চুক্তির ভবিষ্যৎ কী, যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষেও ‘বলা হলো না’

কলকাতার নিউ টাউনের ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষে বের হয়ে আসনে প্রতিনিধিরা। ছবি: রাইজিংবিডি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শেষেও বলা হলো না, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ কী। 

শুক্রবার (২২ মে) যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠকের পর বেরিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের কেউ-ই কোনো কথা না বলে চলে যান। সাংবাদিকরা মাইক্রোফোন এগিয়ে বারবার প্রশ্ন করলে তাদের মুখে থেকে একটি কথাও বের হয়নি।

আরো পড়ুন:

১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। তার আগে এটাই ছিল যৌথ নদী কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা কী আলাপ করলেন, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কী অবস্থান তৈরি হলো; সেসব বিষয়ে জানার আগ্রহ ছিল। 

কলকাতার নিউ টাউনের ফেয়ারফিল্ড ম্যারিয়ট হোটেলে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বৈঠক শেষ হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফরাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গার পানিপ্রবাহ নিয়ে যৌথ পর্যবেক্ষণে নামে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। বেনিয়া গ্রামের ঘাটপাড়া মেলা গ্রাউন্ড-সংলগ্ন অফিস থেকে গঙ্গার মূল স্রোত, ফরাক্কা ব্যারাজ, ভাগীরথী ও পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি ফিডার ক্যানালেও জলপ্রবাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। তবে এই পর্যবেক্ষণে কী তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়েও প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধিরা একে ‘রুটিন অবজারভেশন’ বলেই উল্লেখ করেন।

শুক্রবারের বৈঠকে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীর। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন, মো. আবু সৈয়দ, মো. শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ও মো. রুমানুজ্জামান।

কূটনৈতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।

ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন কিংবা নতুন কাঠামোর (ফ্রেমওয়ার্ক) বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে এখানেই দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।

ভারতের অবস্থান, ফরাক্কা পয়েন্টে বাস্তব পানিপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করেই নতুন চুক্তির কাঠামো নির্ধারণ করা উচিত। অন্যদিকে বাংলাদেশের দাবি, শুধু ফরাক্কা নয়, উজান থেকে গঙ্গার মোট প্রবাহের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে পানি ভাগাভাগির নতুন কাঠামো করতে হবে, যাতে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত হয়।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেয়। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পায় ৪০ হাজার কিউসেক, বাকি অংশ বাংলাদেশের প্রাপ্য হয়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন এখন শুধু নদীর পানি ভাগাভাগির বিষয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নদীর নাব্য, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পানিপ্রবাহ, পশ্চিমবঙ্গের নদীভাঙন এবং পদ্মার পানির প্রবাহ— সবকিছু মিলিয়ে এই আলোচনার ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে দুই দেশেরই।

ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ/রাসেল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়