ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনায় মাস্ক পরে চুরি-ডাকাতি, ‘অ্যাকশনে’ যাচ্ছে পুলিশ

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১০ ৭:০৮:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১১ ১২:২৮:০১ পিএম
ফাইল ফটো

মহামারি করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরাও। স্বাস্থ্য সুরক্ষার ছোট্ট এই উপকরণটি ব্যবহার করে রাজধানীতে একাধিক চুরি-লুটের ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এই বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিগগিরই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশনে’ যাবেন তারা।

অপরাধ বিজ্ঞানী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমানে সাধারণ অপরাধীরা স্বাভাবিক সময়ের মতো অপরাধ করতে পারছে না। তাই তারা অপরাধের ধরন পরিবর্তন করেছে। অপরাধীরা মাস্ক ব্যবহার করে দোকান-পাট লুট শুরু করেছে। তারা এখন মাস্ক বিক্রেতা সেজে রাস্তায় কিংবা বাসা বাড়িতে গিয়ে হাজির হতে পারে। সেখানে মাস্কের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পথচারী বা বাসার লোকজনকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যেতে পারে। এমনকি নির্জন জায়গা বুঝে মাস্ক ব্যবহার করে ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটাতে পারে।

ইতোমধ্যে মাস্ক ব্যবহার করে রাজধানীতে দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেও গেছে। এর একটি ঘটেছে গত রোববার (৫ এপ্রিল)। এদিন মাস্ক পরে খিলগাঁওয়ের লাজ ফার্মায় ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা। অস্ত্রের মুখে ফার্মেসিতে থাকা কর্মীদের জিম্মি করে নগদ টাকাসহ মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় খিলগাও থানায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) মোহাম্মদপুর থানা এলাকার বিল্লাহ ফার্মেসিতে মাস্ক পরে ফিল্মি কায়দায় ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা। ডাকাতরা মোবাইল, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। ওই ঘটনায়ও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের সূত্র বলছে, মাস্ক পরে বা মুখ ঢেকে অপরাধ নতুন নয়। আগেও মাস্ক পরে চুরি, ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। সেগুলো তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে, করোনায় সাধারণ ছুটির কারণে রাস্তা ফাঁকা থাকায় অপরাধীরা অল্প সময়ের মধ্যে অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত পালিয়ে গেছে। দুর্বৃত্তরা কিভাবে, কোন জায়গা থেকে এসে ডাকাতি করে যাচ্ছে, তা ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায়ও ধরা পড়ছে না। আর মাস্ক পরায় তাদের চিহ্নিত করতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-২)-এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দীন ফারুকী বলেন, ‘এ রকম একটা সময়ে ডাকাতির ঘটনাগুলো গুরুত্বসহ দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘মাস্ক পরে দু’টি ডাকাতির ঘটনায় আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। মূলত, অপরাধীরা মাস্ককে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে গাড়ি চলাচল কম থাকায় ও উন্নত প্রযুক্তি থাকায় আমরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পারবো। তারা রক্ষা পাবে না।’

এদিকে, করোনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলাপকালে আইজিপি বলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতির সুযোগে কিছু কিছু অপরাধ বাড়তে পারে। কোনোভাবেই যেন অপরাধের বিস্তার না ঘটে, সেজন্য পুলিশকে আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা বাংলাদেশ পুলিশকে একটি সেবাধর্মী মানবিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করেছি।’ থানাকে জনসেবার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।


ঢাকা/নূর/এনই