ঢাকা     শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৩ ১৪২৭ ||  ২৯ মহরম ১৪৪২

পি কে হালদারসহ ৮৩ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ১৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
পি কে হালদারসহ ৮৩ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

পি কে হালদার (ফাইল ফটো)

রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিসহ ৮৩ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএফআইইউ থেকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।  দুদক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

একই সঙ্গে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হল ইন্টারন্যাশনালের তিন পরিচালক ও এমডিসহ ৯ জনকে তলব করে দুদক।  তাদের আগামী ১৮ আগস্ট হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট পি কে হালদারসহ ৫ জনকে তলব করেছিল দুদক।  বর্তমানে পি কে হালদার পলাতক। ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, পি কে হালদার পিপলস লিজিং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) দায়িত্ব পালন করে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।  ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। মামলার এজাহারে পি কে হালদার ও তার স্বার্থ–সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ১ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে তথ্য ছিল।

দুদক বলছে, কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন পি কে হালদার।  অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদক বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য অনুরোধ করে। এর ধারাবাহিকতায় পি কে হালদারের অর্থ লেনদেন নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের বিষয়ে অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, পি কে হালদার ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।  এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, পি কে হালদারের হিসাবে ২৪০ কোটি টাকা এবং তার মা লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা।  তবে এসব হিসাবে এখন জমা আছে মাত্র ১০ কোটি টাকার কম।  এছাড়া পি কে হালদার এক ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ নিয়েছেন।  এসব টাকা দিয়েই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা কেনা হয়।  তবে ঋণ নেওয়া পুরো টাকার হদিস মিলছে না।

এদিকে, একই অভিযোগে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তিন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এম এ রহমান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়