ঢাকা     সোমবার   ২৩ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১০ ১৪৩২ || ৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অনুদান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ২৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৯:২৭, ২৩ মার্চ ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অনুদান

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে সম্প্রতি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ‘গবেষণা (পরিচালনা, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা) নির্দেশিকা ২০২৬’ শীর্ষক এ নীতিমালায় প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গবেষণাকে উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক শ্রেণির প্রাতিষ্ঠানিক বা দলীয় গবেষণার জন্য অনুদান নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। খ শ্রেণির একক গবেষকরা পাবেন ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং গ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে। গবেষণার গুরুত্ব ও পরিধি বিবেচনায় প্রয়োজনে এ আর্থিক সীমা পুনর্নির্ধারণের সুযোগও রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

গবেষণার সময়সীমাও শ্রেণিভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে: ক শ্রেণির জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস, খ শ্রেণির জন্য ৯ মাস এবং গ শ্রেণির জন্য ৬ মাস। অনুদানের অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। 

ইনসেপশন রিপোর্ট অনুমোদনের পর প্রথম কিস্তিতে ৪০ শতাংশ, গবেষণার অর্ধেক অগ্রগতি হলে মধ্যবর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরো ৪০ শতাংশ এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা ও অনুমোদনের পর অবশিষ্ট ২০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। পূর্ববর্তী কিস্তির ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে পরবর্তী অর্থ ছাড় হবে না।

নির্দেশিকায় অর্থ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণের কথাও বলা হয়েছে। মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সম্মানি হিসেবে ব্যয় করা যাবে। এর মধ্যে গবেষণা পরিচালক সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, সহ-গবেষকরা ১৫ শতাংশ এবং গবেষণা সহকারী বা সহযোগীরা ১০ শতাংশ পর্যন্ত সম্মানি পাবেন। বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হবে।

গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, গণমানুষের অংশগ্রহণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ তালিকার যাচাই, ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দলিলায়ন, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বধ্যভূমি, নারী-শিশু ও সংখ্যালঘুদের ভূমিকা, ডিজিটাল আর্কাইভ ও জিআইএস ম্যাপিং। এসবের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, কারণ, অর্জন, চ্যালেঞ্জ, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, এবং এর চেতনার রাষ্ট্রীয় বাস্তবায়ন নিয়েও গবেষণা করা যাবে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে গবেষণা শেষ না হলে বা প্রতিবেদন বাতিল হলে অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। কোনো অর্থ অব্যবহৃত থাকলে সেটিও মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। সব ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাউচার ও হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এছাড়া, গবেষণায় মান, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হলে গবেষণা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারণ, আইন সংস্কার, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবহারের জন্য কাজে লাগানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকা/এএএম/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়