ঢাকা     শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩১

প্যারেন্টিংয়ে আমরা যে ভুলগুলো করে ফেলি

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৮, ১৬ মে ২০২৪  
প্যারেন্টিংয়ে আমরা যে ভুলগুলো করে ফেলি

ছবি: প্রতীকী

আমরা যখন শিশুদের সঙ্গে কথা বলি তখন খুব বেশি ভেবেচিন্তে কথা বলি না। কখনো তাদেরকে ভয় দেখাই, উৎসাহ দিতে গিয়ে তুলনা করে ফেলি। বুঝে উঠতে পাারি না কেন শিশুর বিদ্রোহ, রাগ, ক্ষোভ বেড়ে যাচ্ছে?

ডা. সুষমা রেজা বলেন, আমাদের শিশুদের ব্রেন কিন্তু শিশুদেরই ব্রেন। একটা ছয় বছরের শিশুর ব্রেন ছয় বছরের মতো করেই ভাবতে পারে। প্রত্যেকটা শব্দ ধরে ধরে তাদের মাথায় একেবারে আটকে যায়। তাই আপনি যদি বাচ্চাকে অনবরত বলতে থাকেন তুমি সব সময় এরকম করো কেন? তাহলে শিশুদের মধ্যে ভীষন হীনমন্যতার জন্ম হয়। আবার আমরা যখন বাচ্চাদের আচরণের কোনো একটি দিকের পরিবর্তন আনতে চাই বা চাচ্ছি তখন ভীষণ সহজ একটা উপায় হিসেবে তুলনা করতে শুরু করি। যেমন পড়ছো না  কেন? তোমার বন্ধু কত পড়ে। কিংবা তোমার বন্ধুর রেজাল্ট দেখেছো আর তোমার রেজাল্ট দেখেছো? এই ধরনের কথাবার্তা শিশুর সঙ্গে যোগাযোগে অনেক বড় বাঁধা হিসেবে কাজ করে। একটি শিশুকে যখন অন্য একটা শিশুর সঙ্গে তুলনা করা হয় তার সার্বভৌমত্বে গিয়ে এটা লাগে। 

আমরা আমাদের শিশুদের অনেক সময় গাধা, গরু, কুকুর, ছাগলও বলে বসি। কিন্তু একবারও কী ভাবি এতে তাদের মনের অবস্থা কী হয়?

ডা.সুষমা রেজা বলেন, আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে বলতে শুরু করি ‘তুমি একটা গাধা’, তুই একটা রাম ছাগল। এভাবে অনেকগুলো পশু, পাখি এবং প্রাণীর নাম চলে আসে। আমরা কখনো মনে করি না এটা একটা ইমোশোনাল অ্যাবিউস। কখনো বিশ্বাস করি না যে এটা একটা অপরাধ। এমন আচরণে শিশুর মন আহত হয়, ওরা কষ্ট পায়। শিশুটি যখন একটু একটু করে বড় হতে হতে টিনেজার হয়ে যাচ্ছে তখন তাদের বয়স কিন্তু বড়দের কাছাকাছি চলে যায়। এই বয়সে এসে সব কথা শুনতে চায় না। তখন আমরা মোরালাইজেশন শুরু করি। বলতে শুরু করি যে, আমার পরিবারে কখনো এটা হয় নাই, ওটা করি নাই; ইত্যাদি। টিনেজার শিশুরা এ ধরনের কথা একদম পছন্দ করে না। যখন আমরা বলি ‘তুমি কখনোই কথা শোনো না’। তখন ওরা বলে বসে ‘আমিতো কথা শুনি’। বিশেষ করে একটু টিনেজার বাচ্চা যারা তারা এই কথাগুলো বলেই ফেলে। এভাবে শিশুরা বিদ্রোহ করতে শিখে যায়।

আমরা যারা বড়, তারাও কিন্তু অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করাটা মেনে নিতে পারি না। তুলনা আমাদেরকে মোটিভেট করে না বা অনুপ্রেরণা দেয় না। বরং এটা আমাদের ভেতরে অদ্ভূত রকমের রাগ, ক্ষোভের জন্ম দেয়। সুতরাং একটি শিশুকে অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করার আগে একবার চিন্তা করে দেখতে পারেন।

/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়