Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৯ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৬ ১৪২৮ ||  ০৬ রমজান ১৪৪২

মধুমতিতে ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, মিলবে না সরকারি সহায়তাও

মাগুরা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৫, ১০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১২:২৮, ১১ অক্টোবর ২০২০
মধুমতিতে ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, মিলবে না সরকারি সহায়তাও

মধুমতি নদীতে ইলিশের খোঁজে দুই জেলে

আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতি নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ নিষেধাজ্ঞার সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জেলেদের সরকারি সহায়তার বরাদ্দ দেওয়া হলেও মহম্মদপুর উপজেলার জেলেদের সহায়তা দেওয়া হবে না। স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধুমতি নদী ইলিশের জোন হিসেবে স্বীকৃত নয়, তাই এখানকার জেলেরা সরকারি সহায়তা পাবেন না।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে মাছ ধরতে নামলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০০ জেলে পরিবার। তারা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

মহম্মদপুর উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, এ উপজেলায় নিবন্ধিত ১ হাজার ৫৮৩ জন জেলে আছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন মধুমতি নদী থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

বিপ্লব মালো, বিপুল মালোসহ কয়েকজন জেলে বলেন, ‘আমরা মধুমতী নদীতে মাছ ধরি। নিষেধাজ্ঞার সময় নৌকাগুলো নিরাপদে রেখে জাল বাড়িতে নিয়ে যাই। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তা আমরা মানি এবং মানব। কিন্তু এ সময় আমাদের পরিবার নিয়ে অভাব-অনটনে থাকতে হয়।’

লাকু মোল্যা নামের এক জেলে বলেন, ‘আমরা সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। তাতে কোনো কাজ হয়নি। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমাদের দুর্দশা কমত।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, ‘যদি জেলেদের কিছু সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকত, তাহলে আমরা নিষেধাজ্ঞা আরো বেশি কার্যকর করতে পারতাম। অনেক জেলা ও উপজেলায় জেলেদের ৩০ কেজি করে চাউল দেওয়াসহ বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ‘মধুমতি নদীনির্ভর অন্য জেলার জেলেরা সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়, কিন্তু মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার লোকজন পায় না। এ উপজেলাকে ইলিশ জোনের আওতায় আনার জন্য কয়েকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনও অনুমোদন হয়নি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

মাগুরা/শাহীন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়