RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কীভাবে লাপাত্তা হলেন এসআই আকবর?

আবদুল্লাহ আল নোমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ১৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৩৫, ১৮ অক্টোবর ২০২০
কীভাবে লাপাত্তা হলেন এসআই আকবর?

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় ১২ অক্টোবর উপপরিদর্শক (এসআই) আকবরসহ ওই ফাঁড়ির চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকেই লাপাত্তা এসআই আকবর। তার মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। বাকি ৬ জনকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, আকবর কিভাবে লাপাত্তা হলেন- এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনো কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তার খোঁজে সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া ওই পুলিশ সদস্যের পালিয়ে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া আকবর বাদে অভিযুক্ত বাকি পুলিশ সদস্যদের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরে তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আকবর ছাড়া বাকিরা আমাদের হাতে রয়েছে। পিবিআই যখনই তাদের চাইবে, তখই অফিসিয়ালি হস্তান্তর করবো। যে একজন পলাতক, তাকে ধরার চেষ্টা চলছে। পিবিআইও ধরার চেষ্টা করবে। সে যেন পালাতে না পারে, এজন্য সবকটি ইমিগ্রেশনেও চিঠি দেওয়া আছে।’

এদিকে, আকবর হোসেনের লাপাত্তার ঘটনায় বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছেন। কেউ বলছেন, তিনি পুলিশের হাতের মুঠোয় রয়েছেন। আবার পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে ধরতে সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু বলেন, ‘বলা হচ্ছে এসআই আকবর পালিয়ে গেছে। সে কীভাবে পালায়? সে বন্দর বাজার ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন। রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় তাকে বরখাস্ত করেই পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতিকর্মী ও সাংবাদিক রাজিব রাসেল বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগকে এ বিষয়টি দেখা উচিত। কীভাবে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলার পরেও পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যায়?’।

নারী নেত্রী ও সংস্কৃতিকর্মী ইন্দ্রানী সেন শম্পা বলেন, ‘পুলিশের নিরাপত্তা বলয় থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে পালিয়ে যায়, যে কিনা রায়হান হত্যায় অভিযুক্ত। পুলিশ এর দায় এড়াতে পারে না।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, ‘সাময়িক বহিষ্কারের পর পুলিশের উচিত ছিল আকবরসহ সবাইকে নজরদারিতে রাখা। কিন্তু অন্য ৬ জনকে রাখলেও আকবর সেখান থেকে পালালো কীভাবে?

রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো অপরাধী ছিল না। তাকে মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য নির্যাতন করে মেরেছে। কিন্তু এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমি হত্যার বিচার চাই। পুলিশ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। তাই পালিয়ে যাওয়া আকবরকেও খুঁজে বের করতে অনুরোধ জানাই।’

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ছেলে আকবর হোসেন ভূঁইয়া। ২০১৪ সালে তিনি পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দেন। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসএই) হয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে পদোন্নতি পান। গত বছরের ৬ নভেম্বর তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব পান।

এ ফাঁড়িতেই গত ১১ অক্টোবর ভোরে মৃত্যু হয় স্বাস্থ্যকর্মী রায়হান আহমদের (৩৪)। নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে দাবি করে তার পরিবার। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসএমপির তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তেও ফাঁড়িতে নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ পায়।

এ ঘটনায় করা মামলা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিশেনের (পিবিআই) হাতে রয়েছে। নথি পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নিহতের স্বজন এবং কাস্টঘর এলাকার দুই সুইপারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এছাড়া রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তও করা হয়েছে। ময়না তদন্তে তার শরীরে নির্যাতনের একাধিক চিহ্ন মিলেছে। আর অতিমাত্রায় ‘নির্যাতনের কারণেই’ তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক চিকিৎসক।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান বলেন, ‘নথি হাতে পাওয়ার পর থেকেই পিবিআই মামলার তদন্ত শুরু করে। মামলা স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে সব বিষয়ে তথ্য প্রমাণ প্রয়োজন। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে যারই নাম আসুক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।’

নোমান/সাইফ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়