ঢাকা     শনিবার   ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৯

বুড়িগঙ্গা পাড়ের ডকইয়ার্ড সরানোর উদ্যোগ 

আসাদ আল মাহমুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৫, ৩ অক্টোবর ২০২২  
বুড়িগঙ্গা পাড়ের ডকইয়ার্ড সরানোর উদ্যোগ 

ফাইল ছবি

বুড়িগঙ্গার তীরে অবৈধ ডকইয়ার্ডের ছড়াছড়ি। নদীগর্ভ দখল করে গড়া ওঠা ওই ডকইয়ার্ডগুলোর কারণে পরিবেশের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি বুড়িগঙ্গার জীবপ্রকৃতিও নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুড়িগঙ্গার ডকইয়ার্ডগুলো ধলেশ্বরীর বক্তাবলি ও গজারিয়ার চরকিশোরগঞ্জে মালিকদের সরকারি প্লট দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ বিষয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নৌ-মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২০১৯ সালে বুড়িগঙ্গা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী নদীগুলোতে  উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তখন নদী-তীরবর্তী অনেক বড় স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ৩২টি ডকইয়ার্ড ভাঙা হয়নি। বর্তমানে কেরানীগঞ্জের  মাদারীপুর ডকের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও লাইসেন্সহীন আরও ৩১টি ডকইয়ার্ড সচল রয়েছে। প্রতিটি ডকেই নতুন জাহাজ ও লঞ্চ নির্মাণ কর্মযজ্ঞ চলছে। পাশাপাশি নদীতে নোঙর করে পুরনো জাহাজ মেরামতের কাজও চলছে। এর মধ্যে কোরানীগঞ্জের কালগিঞ্জে রয়েছে ৮টি ডকইয়ার্ড। মদিনা ডকইয়ার্ড, বিসমিল্লাহ ডকইয়ার্ড, লাট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ডকইয়ার্ড, সাত্তার খান ডকইয়ার্ড, অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, ফারুক খান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, জেনারেল ডকইয়ার্ড, লাকী ডকইয়ার্ড এবং পারজোয়ার ডকইয়ার্ড। কেরানীগঞ্জের মিরেরবাগে রয়েছে ২৪টি নজরুল ইসলাম ডকইয়ার্ড, মাদারীপুর ডকইয়ার্ড, প্রিন্স ডকইয়ার্ড, ফারুক (সাবেক সাত্তার) ডকইয়ার্ড, আজিম ডকইয়ার্ড, তালুকদার ডকইয়ার্ড, সেমার্স সাগর ডকইয়ার্ড, সেমার্স আলী ডকইয়ার্ড, সেমার্স উজির আলী ডকইয়ার্ড, ঢাকা ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, বোগদাদিয়া অ্যান্ড ময়ুর ডকইয়ার্ড, সেমার্স সিটি ডকইয়ার্ড, জনতা ডকইয়ার্ড, সেমার্স বায়োজিত ডকইয়ার্ড, হোসেন ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, লাট ডকইয়ার্ড-২, মেসার্স প্রিন্স আওলাদ ডকইয়ার্ড, শামছু ডকইয়ার্ড, অগ্রগতি ডকইয়ার্ড, শামসুদ্দিন ডকইয়ার্ড, বিসমিল্লাহ ডকইয়ার্ড, আগরপুর ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপ বিল্ডার্স, ফারহান ডকইয়ার্ড, কুমিল্লা শিপ বিল্ডার্স।

ঢাকা ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইকবাল হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে আমরা ডক ছেড়ে দিতে চাই। আমাদের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তবে সরকার যা বলবে আমরা তা মানতে বাধ্য। সরকারের পক্ষ থেকে শুধু জমি দিলেই হবে না, আমাদের আর্থিক বিষয়টিও সরকারকে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সোমবার ডকইয়ার্ডসমূহ স্থানান্তর নিয়ে একটি  বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরবো।

বিআইডব্লিউটিএ এর একজন কর্মকর্তা রাইজিবিডিকে বলেন, বুড়িগঙ্গা দখল করে গড়ে উঠা ডকইয়ার্ডগুলো হুমকির মধ্যে ফেলেছে দেশের প্রধান নৌবন্দর ঢাকা সদরঘাটকে। ডকইয়ার্ডগুলো বুড়িগঙ্গা নদীর  অর্ধেক দখল করে রেখেছে।  নৌযানগুলো ঘাট থেকে বের হওয়ার সময়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ডকইয়ার্ডগুলো ধলেশ্বরীর বক্তাবলি ও শিপ ইয়ার্ডগুলো গজারিয়ার চরকিশোরগঞ্জে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে রাইজিবিডিকে বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ডকইয়ার্ড। এসব ডকইয়ার্ডের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। আমাদের হস্তান্তরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন আমরা মালিকদের সঙ্গে বসবো। পাশাপাশি এ বছরের মধ্যেই একটি প্রকল্প নেওয়া হবে। যা বড়িগঙ্গা নদীকে তার আগের অবস্থা ফিরিয়ে দিতেই এ উদ্যোগ। 

এ বিষয়ে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রাইজিবিডিকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বুড়িগঙ্গার অবৈধ ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ডগুলো স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে।  নদীকে তার জায়গা ছেড়ে দেওয়া ও বুড়িগঙ্গা ডকইয়ার্ড ভাটির দিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে। বুড়িগঙ্গার ডকইয়ার্ড স্থানান্তরের কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ডকইয়ার্ড স্থানান্তর করা হবে।

/আসাদ/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়