ঢাকা     শনিবার   ২২ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৮ ১৪৩১

জিসিএ অ‌্যাওয়ার্ড পেলো বাংলাদেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ১১ জুন ২০২৪   আপডেট: ২১:৪৩, ১১ জুন ২০২৪
জিসিএ অ‌্যাওয়ার্ড পেলো বাংলাদেশ

বাংলা‌দেশকে জিসিএ অ‌্যাওয়ার্ড দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা সংস্থা গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন।‌ বাংলাদেশকেই প্রথম এ অ‌্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো।

মঙ্গলবার (১১ জুন) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের (জিসিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. প‌্যা‌ট্রিক ভি ভার্কই‌জেন।

গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের (জিসিএ) যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর। এর সদর দপ্তর নেদারল্যাল্ডসের রাজধানী হেগে। এই সংস্থা জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দিয়ে আসছে। জলবায়ু অভিযোজনের কৌশল বা সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে, রাষ্ট্রীয় খাত থেকে বেসরকারি খাতে। জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যত তৈরিতে একে অন্যের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং একজনের সফল অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামগ্রিক ভিত্তিতে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। 

মূলত, পাঁচটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জিসিএ। এগুলো হলো—জীববৈচিত্র্যভিত্তিক অভিযোজন জোরদার, আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জলবায়ু অভিযোজনকে কাজে লাগানো, কার্যকর অভিযোজন পরিমাপ, জলবায়ু সহনশীল শহর গড়ে তোলা এবং ব-দ্বীপসমূহের জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে অভিযোজন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করায় বাংলাদেশ এই পুরস্কার পেয়েছে।  

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, জিসিএ’র নিয়ম অনুযায়ী, এই বছর পুরস্কার পাওয়ায় আগামীতে কে পুরস্কার পাবে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় থাকবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের তহবিল গঠনের উদ্ভাবনী কর্মসূচির জন্য প্রথম কোনো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই লোকাল অ্যাডাপটেশন চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার গ্রহণ করে।

পুরস্কার গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করছি। বাংলাদেশের জনগণের সহনশীলতা ও উদ্ভাবনী চেতনা সব সময় প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যে আমাদের পথ দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে জোরদার করবে। আমরা একটি সমৃদ্ধ এবং স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যতের যাত্রায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের অমূল্য সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ।

প্যাট্রিক ভি ভারকুইজেনের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু তহবিল গঠন করেছি।

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তার জন্য উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ জলবায়ু তহবিলে দেয় না। এই বিষয়ে একমত পোষণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশনের প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক ভারকুইজেন।

জলবায়ু তহবিলে অর্থ সরবরাহে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন জিসিএ‘র প্রধান নির্বাহী। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে আরও সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

ডেনমার্কের জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ ছাড়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে প্যাট্রিক ভি ভারকুইজেন বলেন, অন্যথায় ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থ ফেরত পাঠানো হবে।

জিসিএ’র প্রধান নির্বাহী ঢাকা সংলগ্ন এলাকায় প্রকৃতিনির্ভর ভাসমান একটি আইকনিক অফিস করার প্রস্তাব দেন। নেদারল্যান্ডসের রটারডামে একই ধরনের একটি অফিস আছে। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে সেটি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরের কোনো এলাকা বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন ভারকুইজেন।   

শেখ হাসিনার সঙ্গে জিসিএ‘র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন—প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। 

পার‌ভেজ/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়