বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যরা ফিরছেন দেশে
বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ‘পিটিআই’ এবং সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্টেটসম্যান’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি।
দ্য স্টেটসম্যান লিখেছে, “তবে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলো খোলা থাকবে এবং পূর্ণভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।”
খবরে নয়াদিল্লির সূত্রকে উদ্ধৃত করা হয়েছে এভাবে, “বাংলাদেশের বর্তমান অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেখানে কর্মরত সব ভারতীয় কূটনীতিকের পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরে যেতে হবে। সেদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
দ্য স্টেটসম্যান ভারতের সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করেছে এভাবে, “নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাইকমিশন ও অন্যান্য কেন্দ্রে কর্মরত আমাদের কর্মকর্তাদের নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এই সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি।
ভারতীয় হাইকমিশন রয়েছে ঢাকায়। খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে রয়েছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন। সব জায়গা থেকেই ভারত তাদের কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছে।
দ্য স্টেটসম্যান লিখেছে, গত মাসে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং ময়মনসিংহ জেলায় কারখানাশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ভারত সরকার দুই দফায় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। এ সময় বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ তার কাছে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ঢাকায় ভারতীয় মিশনকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট তৈরি করার ঘোষণা দেওয়া কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
পিটিআই লিখেছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিয়ে উগ্রপন্থি মহল যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে, ভারত তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বর্ণনা করে বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করেনি এবং ভারতের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও অর্থবহ তথ্যও আদান-প্রদান করেনি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে- এমন মোট ৬৪৫টি ঘটনা ঘটেছে।
পিটিআই বলছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কূটনীতিকদের জন্য বাংলাদেশকে ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।
ঢাকা/রাসেল