ঢাকা     সোমবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৯ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদের পরে বইমেলা আয়োজনসহ প্রকাশকদের ৪ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৩:১১, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঈদের পরে বইমেলা আয়োজনসহ প্রকাশকদের ৪ দাবি

বইমেলার সময়সূচি পরিবর্তনের দাবিতে প্রকাশকদের সংবাদ সম্মেলন

‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করতে চান প্রকাশকরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর বারোটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার সময়সূচি পরিবর্তনসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ প্রকাশকরা।

বাংলা একাডেমী ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলার সময়সূচি নির্ধারণ করেছে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। তবে প্রকাশকেরা মতে, পবিত্র রমজান মাসে বইমেলার আয়োজন মানেই প্রায় নিশ্চিত লোকসান। তাদের দাবি, সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ অবশ্যই ঈদের পর আয়োজন করা জরুরি।

আরো পড়ুন:

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন। তিনি বলেন, “বিগত দেড় বছরে বইয়ের বিক্রি ৬০ ভাগ কমে যাওয়ার পরও যে আমরা এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছি-এটা নিছক ব্যবসায়িক সমীকরণ নয়, বরং এক ধরনের ‘স্যাক্রিফাইস’ বা আত্মত্যাগ। এই চরম ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়েই আজ আমরা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছি। তাই আজ কেবল প্রকাশকদের স্বার্থে নয়, বরং শিল্প-সাহিত্যের বৃহত্তর স্বার্থে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আদায় এবং এবারের বইমেলা ঈদের পরে আয়োজনের দাবিতে লেখক-পাঠকসমাজকেও আজ সোচ্চার হতে হবে।”

মারুফ মহিউদ্দিন বলেন, “এই সংকট কেবল আমার বা আমাদের কয়েকজনের নয়। দেশের সৃজনশীল প্রকাশকদের মূল সংগঠন ‘বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি’ (বাপুস)-এর কাছে ইতিমধ্যে ২৬২ জন সৃজনশীল প্রকাশক স্বাক্ষরিত চিঠিতে মেলা পেছানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে। বাপুস এবং সাধারণ প্রকাশকরা আজ এক কাতারে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা তিনটি প্রধান বাধার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রোজা এবং সামনে ঈদ। এই সময়ে মানুষের বাজেটের সিংহভাগ চলে যায় পোশাক ও খাদ্যদ্রব্যে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মেলার প্রধান ক্রেতা-শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবেন না। পাঠকশূন্য মেলায় স্টল দেওয়া আর জেনেশুনে বিষপান করা একই কথা। জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলে প্রেস ও বাইন্ডিং শ্রমিক এবং স্টল নির্মাণের কারিগর পাওয়া দুষ্কর হবে। নির্মাণসামগ্রীর দাম এখন আকাশচুম্বী। এই অস্থিতিশীল সময়ে তাড়াহুড়ো করে মেলা সাজানো অসম্ভব। বইমেলার স্টলগুলোতে যারা কাজ করেন, তাদের প্রায় সবাই শিক্ষার্থী। ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে তারা গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের কাছে যেতে চাইবেন। তাদের আটকে রাখা অমানবিক। এই শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই রোজা পালন করেন। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের পর ক্লান্ত শরীরে স্টলে দাঁড়িয়ে কাজ করা কার্যত অসম্ভব। এটি হাজারো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক অধিকারকে অবজ্ঞা করার নামান্তর।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ প্রকাশকরা তাদের ৪টি দাবি তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে- ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাপুস ও সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রকাশকের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারের বইমেলা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর আয়োজনের ঘোষণা দিতে হবে। প্রকাশকদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা বিবেচনায় স্টল ভাড়া মওকুফ করতে হবে এবং সরকারি খরচে স্টলের সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি করে দিতে হবে।শিক্ষার্থীদের বই কিনতে উৎসাহিত করতে পহেলা বৈশাখের মতো বিশেষ ‘বই-ভাতা’ বা প্রণোদনা চালু করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সরকারিভাবে প্রতিটি মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

মারুফ মহিউদ্দিন, “আমরা এর আগে সংস্কৃতি উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। তাই আজ এই সংবাদ সম্মেলন শেষেই আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে স্মারকলিপি প্রদান করব। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি নিজেও একজন লেখক হওয়ায় আমাদের এই ‘স্যাক্রিফাইস’ বুঝবেন এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত দেবেন।”

সাধারণ প্রকাশরা জানান, তাদের যৌক্তিক এসব দাবি মেনে না দিলে ২৬২ জন প্রকাশকসহ সাধারণ প্রকাশকদের পক্ষে আসন্ন বইমেলায় অংশগ্রহণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাদের ভাষ্য, “আমরা মেলা চাই, কিন্তু লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ধ্বংস হতে চাই না”।

ঢাকা/রায়হান/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়