ঢাকা     সোমবার   ০২ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩২ || ১২ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে সরকার কাজ করছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০০, ২ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৬:০০, ২ মার্চ ২০২৬
জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে সরকার কাজ করছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী 

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনায় একাধিক কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন:

হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।জুলাইয়ের গণসংগ্রামে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেতন ও উদ্বিগ্ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “আহতদের অবস্থা অনুযায়ী ক, খ ও গ এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের অগ্রাধিকার দিয়ে মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক শ্রেণির আহতদের জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা, খ শ্রেণির জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং গ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শহীদ প্রতিটি পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরো জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। এই পরিদপ্তরের মাধ্যমে পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শহীদ পরিবারের যেসব সন্তান লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনতে শিক্ষা ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে যারা হাত-পা হারিয়েছেন বা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা বা স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বিআরডিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। পরবর্তীতে তা বেড়ে আড়াই লাখে পৌঁছায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হয়। বিগত সরকারের সময়ে ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়েছে।”

তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে তালিকা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, “প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন তাদের প্রাপ্য সব সুবিধা পান, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা অন্যায়ভাবে যে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করা হবে।”

ঢাকা/এএএম/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়