ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, কমলাপুরে চরম ভোগান্তি
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ধরতে সেহরি খেয়ে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন আসেন পোশাককর্মী ইসরাফিল আলী। বাড়তি ভাড়া দিয়ে ও পথে পথে ভোগান্তির শিকার হয়ে কমলাপুরে এসে দেখেন, নির্ধারিত সময়ে ট্রেন আসেনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন— কখন ট্রেন আসবে, কখন ফিরবেন বাড়ি।
শিডিউল বিপর্যয়ের কথা বলে জানানো হয়, নীলসাগর ট্রেন আসবে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। পরে সে শিডিউলও ঠিক রাখতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। সেই ট্রেন আসে বেলা সাড়ে ১১টার পর।
ট্রেন প্ল্যাটফরমে ভিড়তেই ট্রেনে ওঠার জন্য যাত্রীদের শুরু হয় দৌড়ঝাপ— কার আগে কে উঠবেন। কোচের সিট পূর্ণ হয়ে যায় মুহূর্তেই। ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। ঠেলাঠেলি করে অনেক যাত্রী ওঠেন ছাদে। একপর্যায়ে পুরো ট্রেনের ছাদ যাত্রীতে ভরে যায়। এভাবে ছাদভর্তি যাত্রী নিয়ে নিরপাত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও পৌনে ১২টায় ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশে কমলাপুর ছেড়ে যায়।
একইভাবে পঞ্চগড় রুটের একতা এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটির সময় দেওয়া হয় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে।
ঈদে ঘরমুখী শত শত যাত্রী পরিবার নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। এখন যে ট্রেনই আসছে, তাতে হুড়মুড় করে উঠে পড়ছেন যাত্রীরা। টিকিট না পাওয়ায় অনক যাত্রী ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে চড়ছেন। যেকোনো মূল্যে বাড়ি ফেরার তাড়া যাত্রীদের।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র এমনই ছিল।
ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে শত শত নারী-পুরুষ, শিশু ভোর থেকে কমলাপুরে ছুটে আসেন। বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় প্ল্যাটফরমে বসে আছেন। কোন ট্রেন কখন ছাড়বে, তা জানতে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা। অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হয় না।
দৌড়ে জানালা বেয়ে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ছাদে ওঠেন যাত্রী মনিরুজ্জামান। স্বস্তির নিশ্বাস ছেড়ে বলেন, “ভাই, কোনো টিকেট নেই। বাড়ি তো যেতে হবে। ট্রেনে উঠতে পেরেছি, এটাই বেশি। আল্লাহ যেনো সবাইকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন।”
কর্মজীবী খালেদা খানম পরিবার নিয়ে যাবেন পঞ্চগড়ে। তিনি বলেন, “ভোর থেকে বসে আছি। এখনো ট্রেনের দেখা নেই। আমার মতো শত শত যাত্রী কমলাপুরে ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে দুর্ঘটনার কারণে দুটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে তিনি এ কথা জানান। দুটি ট্রেনে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীসেবা কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস গতকাল ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকায় এসেছে। এই ট্রেনে কোচ কম আছে। নতুন কোচ সংযোজন করে সেটি ছাড়া হবে।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রফিক