ঢাকা     বুধবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ২ ১৪৩৩ || ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দুর্নীতি ঠেকাতে ১১ পদক্ষেপ, ইনামজারি বাধ্যতামূলক: ভূমিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১২, ১৫ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:১৩, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
দুর্নীতি ঠেকাতে ১১ পদক্ষেপ, ইনামজারি বাধ্যতামূলক: ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: সংগৃহীত

উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে ১১ দফা কৌশল নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ইনামজারি বাধ্যতামূলক করা, অনলাইনে কর পরিশোধ, ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু এবং ডিজিটাল সার্ভে অন্যতম। 

সংসদে দেওয়া লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

আরো পড়ুন:

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, দালালদের হস্তক্ষেপ কমাতে ই-নামজারি শতভাগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি আবেদনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে।

তিনি জানান, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে নগদ লেনদেন বন্ধ করতে অনলাইন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়া যাচ্ছে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক শোকজ ও বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমি অফিসে ঘুষ বা হয়রানির অভিযোগ জানাতে ১৬১২২ নাম্বারে হটলাইন চালু রয়েছে, যা সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি এ সেবা তদারকি করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

নকশা জালিয়াতি ঠেকাতে ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল সার্ভে শুরু হয়েছে। এতে রেকর্ড সংশোধনে মানবিক হস্তক্ষেপ কমবে এবং নির্ভুল মানচিত্র তৈরি সম্ভব হবে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইনে খতিয়ান দেখা ও ডাকযোগে পর্চা পাওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ভূমি অ্যাপ ও কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান চালুর ফলে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হয়েছে এবং স্বচ্ছতা বেড়েছে। ঢাকার তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপনের কাজও চলছে।

এ ছাড়া অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও লিজ–সেটেলমেন্ট কার্যক্রমও ধীরে ধীরে সফটওয়্যারের আওতায় আনা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ভূমি খাতে দুর্নীতির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আবেদন পাওয়ার পর খাসজমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে যোগ্যদের মধ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের জমি অকৃষি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় সেখানে ভূমিহীন পুনর্বাসনের সুযোগ নেই। তবে বেদখল সরকারি জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা খাসজমি পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হবে।

ঢাকা/এএএম//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়