ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, ফলাফলে প্রতিফলিত হয়নি গণমত: মামুনুল হক
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অভিযোগ দাখিল করার পর সংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলেন ঢাকা-১৩ আসনে পরাজিত প্রার্থী মামুনুল হক।
ঢাকা-১৩ আসনে ভোট গণনার সময় পরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অভিযোগ দাখিল করতে এসে এই অভিযোগ তোলেন তিনি।
“ভোটগ্রহণ ছিল সহিংসতামুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ; ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে গণনার সময় ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
সারা দিন স্বচ্ছ পরিবেশ দেখানো হয়েছে কিন্তু গণনার সময় যা করার তাই করে দেওয়া হয়েছে। ফলে গণমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেনি,” বলেন তিনি।
মামুনুল হকের অভিযোগ, ঢাকা-১৩ আসনের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, একাধিক রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা, ওভাররাইটিং ও টেম্পারিংয়ের চিহ্ন রয়েছে।
“আগে একটি অঙ্ক ছিল, পরে আরেকটি অঙ্ক বসানো হয়েছে- এমন স্পষ্ট প্রমাণ আছে। বিশেষ একটি প্রতীকের ভোট বাড়াতে এই কাটাছেঁড়া করা হয়েছে,” অভিযোগ তার।
তিনি আরো বলেন, ব্যালট পেপারের বিন্যাস নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় প্যারার শেষ সারি ফাঁকা থাকায় অনেক ভোটার সেটিকে প্রথম প্যারার শেষ প্রার্থীর জন্য বরাদ্দ মনে করে সেখানে সিল দেন।
মামুনুল হকের দাবি, এভাবে দেওয়া ৪ হাজার ৩৮১টি ভোট বাতিল করা হয়েছে।
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “একই ধরনের ব্যালট অন্য আসনেও ছিল কিন্তু সেখানে বাতিল হয়নি। তাহলে আমাদের ভোট কেন বাতিল হলো?”
কেন্দ্রে তাৎক্ষণিক অভিযোগ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক পোলিং এজেন্টকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি এবং তাকে নিজেকেও কিছু কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রে সাড়ে ৪টার পর এক মিনিট বেশি হওয়ায় আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”
তার অভিযোগ, নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি ও সাংগঠনিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ঢাকা/এমএসবি/রাসেল