ঢাকা     রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৩ ১৪৩২ || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ ফুটে উঠছে: আসিফ মাহমুদ 

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ৫ এপ্রিল ২০২৬  
সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সব লক্ষণ ফুটে উঠছে: আসিফ মাহমুদ 

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘‘বিগত সময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন বর্তমান সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের সকল লক্ষণ ফুটে উঠছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে সেদিন থেকেই আমরা তাদের ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করব। আপনারা যেমন আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছেন না, আমরাও আপনাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।’’

রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

আসিফ মাহমুদ বলেন,‌ ‘‘আপনারা (বিএনপি সরকার) প্রায়ই বলেন যে, আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাসে এর নজির রয়েছে। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করা যায়নি, তখনই ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনা যদি রক্ষা করা না যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।’’

‘‘আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু আপনাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আমরা সকল অংশীজনদের সঙ্গে বসে কাজ করতে আগ্রহী। এত দ্রুত রাজপথে নামার পরিকল্পনা বিরোধী জোটের ছিল না; কিন্তু গণভোট নিয়ে যে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে, তাতে রাজপথে নামা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। এটি কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।’’

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমরা বারবার বিএনপিকে সংবিধানের কথা বলতে দেখি। অথচ প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকতে হবে। অথচ পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রাখার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে যে কোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হলে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা সুস্পষ্ট সংবিধান লঙ্ঘন।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির মানুষের ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা কমিয়ে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অবাধে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।’’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল প্রমুখ।

ঢাকা/রায়হান//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়