দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টায় বিসিবি
প্রশ্নটা সরাসরিই করা হয়েছিল ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে, ‘‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট কূটনীতির সম্পর্কটা বিশ্বকাপে না খেলার কারণেই কী খারাপ হলো?’’
বোর্ডের দায়িত্বশীল পরিচালক সবকিছু যখন পরিস্কার তখন লুকিয়ে রাখার কোনো কারণ খুঁজে পেলেন না। তাই গড়গড় করেই বললেন সব, ‘‘আমাদের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সেটা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার কারণেই। সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিয়েছিলাম যে বিশ্বকাপে খেলতে যাব না। আমাদের তখন তেমন কিছু করারও ছিল না।’’
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকে দুই বোর্ডের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বাংলাদেশ পরবর্তীতে ভারতে বিশ্বকাপও খেলতে যায়নি নিরাপত্তা ইস্যুতে। যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরকারের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ক্রিকেটারদের কথাও শুনেনি। সব মিলিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে একপ্রকার বাধ্যত হয়ে ছিল বিসিবি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টায় ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিসিআই সেই চিঠি গ্রহণ করেছে। তবে আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। সেই অপেক্ষাতেই আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বিশ্বকাপ তো শেষ হয়ে গেছে মাসখানেক আগেই। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ঘা রয়ে গেছে দগদগে। বিসিবিও সেটা অনুভব করতে পারছে। সেই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়েই এখন ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে চায় বিসিবি।
ভারতের প্রতি ক্রিকেট বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন পরিবর্তন এসেছে। এজন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিসিবি সম্পর্ক উন্নয়নে। সূচি অনুযায়ী, কয়েক মাস পরই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতীয় দলের। আবার বাংলাদেশ নারী দলের ভারত সফরের কথাও রয়েছে। দুটি সিরিজে তাকিয়ে বিসিবি। এজন্য বিসিসিআইয়ের দ্বারস্থ রয়েছে ক্রিকেট বোর্ড।
নাজমুল আবেদীন বলেছেন, ‘‘আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের এবং দ্যাটস অন। গত বছর বাংলাদেশের নারী দলের ভারতে যাওয়ার কথা ছিল, যেটা বাতিল হয়ে যায়। সেটি পুনর্নির্ধারণ দেখতে চাই আমরা। বিসিসিআইকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেখানে মূল প্রসঙ্গ ছিল এটিই।”
“পাশাপাশি আরও সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে পারি কি না, অন্যান্য ইভেন্ট করতে পারি কি না, এসব বলা হয়েছে। এসবের বাইরে বললে, এই ধরনের ব্যাপার আমরা সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গেই করে থাকি। আমরা ফলাফল পাওয়ার আশা করছি। তাদের কাছ থেকে দ্রুতই জানতে পারব বলে আশা রাখছি।” – যোগ করেন তিনি।
নাজমুল আবেদীনের বিশ্বাস, ‘‘আমরা আশা করছি, ওরা আমাদেরকে (নারী দলকে) হোস্ট করবে অদূর ভবিষ্যতে। আমরা জানি যে, বিশ্বকাপ ঘিরে ওদের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা অবনতি হয়েছে তো অবশ্যই। আশা করছি, আবার আমরা এই সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করব এবং ওদের সঙ্গে সেসব প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে আবার একটা ভালো অবস্থান তৈরি হবে।”
ভারতের একটি সফর যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বলেন, বোর্ডের এক বছরের সিরিজে যতটা না আয়, ভারতের এক সিরিজে তার দ্বিগুন আয় করা যায়। ভারতের বিশাল মার্কেটের সঙ্গে সিরিজের স্পন্সর, টিকিট, গ্রাউন্ডস রাইট এবং অন্যারন্যর অনেক কিছু বিক্রি করে প্রচুর আয় করতে পারে আয়োজকরা। এজন্যই এই বছরের দুইটি সিরিজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে আগামী বছরের এশিয়া কাপে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী বিসিবি, কারণ টুর্নামেন্টটির স্বত্ব বাংলাদেশের।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে আসা মার্কিন বিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের