মাদক ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে দ্বিমত থাকা উচিত নয়: আলাল
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্যের অন্যতম দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। এ দুটি প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দলের দ্বিমত থাকার কথা নয়। যদি কেউ এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নেয়, তাহলে তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী বলেই বিবেচিত হবে।”
শনিবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিস্তার ঘটেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাদকের ধরন ও বিস্তারও বেড়েছে। এক সময় হেরোইনের নাম শোনা গেলেও পরে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ নানা মাদক সীমান্তপথে দেশে প্রবেশ করতে থাকে। বিশেষ করে মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্ত ঘিরে মাদকের কারবার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তিনি বলেন, “মাদক শুধু সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। তাই সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য জরুরি।”
মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আলাল বলেন, “মাদকবিরোধী অবস্থান ও সীমান্ত এলাকায় কিছু অপতৎপরতার তথ্য উদঘাটনের চেষ্টার কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হয়েছে বলে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।”
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের চক্র মোকাবিলায় আঞ্চলিক সমন্বয় প্রয়োজন হলেও তা খুব কমই কার্যকরভাবে দেখা যায়।”
তিনি আরো বলেন, “সমাজে কোনো নৃশংস ঘটনা ঘটলে মানুষের মধ্যে ঘৃণা ও প্রতিবাদের জায়গা থেকে দ্রুত ঐক্য তৈরি হয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় জাতির মধ্যে সেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা যেন বিদ্বেষ, উসকানি ও অসহিষ্ণুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আলাল বলেন, “মতভেদ থাকতেই পারে, সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রশ্নে সব পক্ষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি।”
অপরাজেয় বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি খায়রুন্নাহার খানমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রেজাদ্দৌলা চৌধুরী, সাবেক সচিব ড. আনিসুল আউয়াল এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারি।
বক্তারা বলেন, “ইতিহাস যেন শুধু গৌরবের স্মৃতি হয়ে না থাকে, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও প্রেরণার উৎস হয়—সেজন্য প্রত্যেক পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মাদকবিরোধী চেতনা গড়ে তুলতে হবে। লক্ষ্য হতে হবে একটি মাদকমুক্ত ও ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়া।”
ঢাকা/নজরুল/সাইফ
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী