ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ
পাঁচ সেঞ্চুরি ও তিন ফাইফারের দিনে ব্যাটে-বলে রোমাঞ্চকর লড়াই
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সপ্তম রাউন্ড যেন হয়ে উঠেছিল ব্যাটারদের উৎসব। প্রতি ম্যাচেই দেখা গেছে রানের ফোয়ারা, ছিল সেঞ্চুরির ঝলকানি! ব্যাট হাতে দাপুটে পারফরম্যান্সে ব্যাটাররা মাঠ মাতিয়ে তুলেছেন, ফলে রাউন্ডজুড়েই বয়ে গেছে সেঞ্চুরির জোয়ার।
ব্যাটারদের সেঞ্চুরির উৎসবের দিনে ৫ উইকেট নিয়ে আলো ছড়িয়েছেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও পেসার এনামুল হক আশিক। তাইজুল ২৬ রানে, আমিনুল ৪৮ ও এনামুল ৪১ রানে ৫ উইকেট পেয়েছেন।
জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এই রাউন্ডে ফেরায় লিগের উত্তেজনা, উন্মাদনা বেড়ে যায়। টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আবাহনী লিমিটেডের হয়ে মাত্র ৮০ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। সিটি ক্লাবের হয়ে সেঞ্চুরি তুলেছেন এনামুল হক। ৪০ পেরোনো এই ক্রিকেটার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন।
মিরপুর শের-ই-বাংলায় দ্যুতি ছড়িয়েছেন ইরফান শুক্কুর। ১২৭ রান করেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের এই ক্রিকেটার। এছাড়া বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের ফজলে রাব্বী দিনের সর্বোচ্চ ১৩২ রান করেছেন। দিনের শেষ সেঞ্চুরি আসে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের আব্দুল্লারহ ব্যাট থেকে।
আবাহনীর জার্সি গায়ে জড়িয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলের জয়ের নায়কও তিনি। অগ্রণী ব্যাংককে ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৯ উইকেটে হারিয়েছে তারা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে অগ্রণী ব্যাংক ১৭৮ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে শান্তর ৯০ বলে ১০৮ রানের ইনিংসে ৩১.৪ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে আবাহনী। শান্ত ৭টি করে চার ও ছক্কায় নিজের সেঞ্চুরি রাঙিয়েছেন আপন ছন্দে।
মোহামেডান স্রেফ উড়িয়ে দেয় গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে। আগে ব্যাটিং করে মোহামেডান ৯ উইকেটে ৩৪৫ রান করে। জবাব দিতে নেমে গুলশান ক্লাব মাত্র ১০৮ রানে গুটিয়ে যায়। ২৩৭ রানে জয় পায় মোহামেডান। মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটির হয়ে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ৭২ ও আফিফ হোসেন ৫৫ রান করেন। জবাবে তাইজুল ও তানভীরের ঘূর্ণিতে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। তাইজুল ৯.২ ওভারে ২৬ রানে ৫ উইকেট নেন। তানভীর ১০ ওভারে ৩৭ রানের খরচে ৪ উইকেট পেয়েছেন।
মিরপুরে লো স্কোরিং ম্যাচে দ্যুতি ছড়িয়েছেন ইরফান শুক্কুর। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২১০ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে শুক্কুরের ১২৭ রানে রূপগঞ্জ সহজে জয় পায়। ৭৫ বলে ১৮ চার ও ৫ ছক্কায় বাঁহাতি এই ব্যাটার ইনিংস সাজান।
পিএসপির দুই নাম্বার মাঠে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। সিটি ক্লাবের ওপেনার এনামুল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়ে করেছেন ১০৩ রান। তার ইনিংসে ভর করে সিটি ক্লাব ২৬৬ রান করে। জবাব দিতে নেমে বিশাল ব্যাটিং লাইনআপ থাকা সত্ত্বেও প্রাইম ব্যাংক ৯ উইকেটে ২৪৭ রানের বেশি করতে পারেনি।
১৯ রানে জয় পায় সিটি ক্লাব। এনামুল ছয়ে নেমে ৯৭ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৩ রান করেন। এছাড়া শাকিল হোসেন ৫৫ ও ওপেনার সাদিকুর ৫৮ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে আজিজুল হাকিম ৯৫ রান তুলে দলকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু তাকে কেউ সহযোগিতা করতে না পারায় শেষ দিকে হারকে সঙ্গী করতে হয় প্রাইম ব্যাংককে। শামীম ৩০, আকবর আলী ২৪, শাহাদাত দিপু ২৭ রানে আউট হন। ৪১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পেসার এনামুল একাই ধসিয়ে দেন প্রাইম ব্যাংকে।
বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়েছে ৭ রানে। বসুন্ধরা ৫ উইকেটে ৩২৪ রান করে। ব্রাদার্সের ইনিংস থেমে যায় ৩১৭ রানে। বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের হয়ে ফজলে মাহমুদ দিনের সর্বোচ্চ ১৩২ রান করেন। ৪ রানের জন্য ইমরানুজ্জামান সেঞ্চুরি মিস করেন। ব্রাদার্সের হয়ে শাহরিয়ার কমল সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন। বল আগে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ৫ উইকেট নিয়ে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে দুর্দান্ত জয় এনে দেন।
ঢাকা লেপার্ডস ৩০ রানে হারিয়েছে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে। আগে ব্যাটিং করে ঢাকা লেপার্ডস ইফতেখার হোসেন ইফতির ৯১ ও মোহাম্মদ মিঠুনের ৭১ রানে ৭ উইকেটে ২৭৬ রান করে। জবাব দিতে নেমে রূপগঞ্জ টাইগার্স আব্দুল্লাহর ১০০ রানে ২৪৬ রান করে ৫ উইকেট হারিয়ে।
ঈদের আগে এটাই ছিল ঢাকা লিগের শেষ রাউন্ড। যেখানে ব্যাট-বলের উত্তেজনায় লিগ জমে উঠেছে দারুণভাবে। ঈদের পর হবে শেষ চার রাউন্ডের খেলা। তখনই বোঝা যাবে শিরোপা যাবে কার ঘরে?
ঢাকা/ইয়াসিন
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী