ঢাকা     শনিবার   ২৩ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩৩ || ৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রামিসা হত্যা: পুলিশের হাতে ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ২৩ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:৫৭, ২৩ মে ২০২৬
রামিসা হত্যা: পুলিশের হাতে ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট

শিশু রামিসা। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যার ঘটনায় ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২৩ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া নিপুন ডিএনএ রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ভিসেরা ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়।

আরো পড়ুন:

শনিবার সন্ধ্যায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান রাইজিংবিডিকে জানান, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডির পক্ষ থেকে সকল ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এসব ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রিপোর্ট হাতে আসায় এখন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিবার (২৪ মে) আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।

গত মঙ্গলবার পল্লবীর একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে। গত বুধবার সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সোহেল ও স্বপ্না বর্তমানে কারাগারে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে করা ‎পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ‎সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।

আবেদনে আরো বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারাল অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে কাটা মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা/মাকসুদ/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়