ঢাকা     শনিবার   ২৩ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩৩ || ৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নগর সংলাপে ডিএসসিসি প্রশাসক

জলাবদ্ধতা ও মশা নির্মূলে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ২৩ মে ২০২৬  
জলাবদ্ধতা ও মশা নির্মূলে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও মশা নির্মূলে সব রাজনৈতিক দল এবং নগরবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের আয়োজনে ‘ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন?’ শীর্ষক নগর সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন:

তিনি বলেন, “রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তন করে একটি মানসম্মত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের চিন্তা করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও সমষ্টিগত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”

আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই ঢাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত, আবর্জনা ও দুর্গন্ধময় শহর এবং মশার নগরী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। জনগণ যদি ৫০ শতাংশ এবং সরকার বা সিটি করপোরেশন যদি বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তাহলে শতভাগ সফলতা অর্জন অসম্ভব নয়।”

ডিএসসিসি প্রশাসক অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, “১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশ এক মহাসংকট ও দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ দ্রুত সেই অবস্থা কাটিয়ে ওঠে। বর্তমানের জাতীয় সমস্যাগুলোর সঠিক নেতৃত্ব ও সমষ্টিগত ঐক্যের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। যথাযথ পদক্ষেপ নিলে মশা ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রায় ৯৯ শতাংশ মশার জন্ম হয় জলাবদ্ধতা থেকে। তাই জলাবদ্ধতা দূর করতে পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপও কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি বলেন, “ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রথমবারের মতো প্রাক-বর্ষা মশার লার্ভা নিধনে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় ৩৬ জন মাঠকর্মী প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ চালাচ্ছেন। মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে লার্ভার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগেভাগে চিহ্নিত করা হবে।”

নাগরিক অসচেতনতার উদাহরণ তুলে ধরে আব্দুস সালাম বলেন, “জরিপ শুরুর প্রথম দিন আমি নিজেই নগর ভবনের পাশের পশু হাসপাতালে যাই। সেখানে দুই দিন আগের বৃষ্টির পানি জমে থাকা একটি ভাঙা কৌটা ও পরিত্যক্ত পাতিলে অসংখ্য লার্ভা দেখতে পাই। লার্ভা ধ্বংস না করলে তা মশায় পরিণত হয়ে মানুষকেই আক্রান্ত করবে। অথচ ঘরের কোণে, ছাদবাগানে কিংবা ফ্রিজের জমে থাকা পানিতে মশা উৎপাদন হলেও দায় চাপানো হয় সিটি করপোরেশনের ওপর।”

এ সময় জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার তাগিদ রাজধানীর জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিক খাল-পুকুর ভরাটকে দায়ী করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

নগর সংলাপে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও মশা গবেষক অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার তার গবেষণাপত্রে বলেন, “বেজমেন্ট ও পার্কিং এলাকায় জমে থাকা পানিতে ৬৪ শতাংশ মশার জন্ম হয়। জলাবদ্ধতা ও মশার সমস্যা সমাধানে নগরবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হবে। নিজ নিজ বাসা ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঢাকা শহরের বাসাবাড়ির নিচতলা এবং খোলা জায়গায় জমে থাকা পানিতে মূলত দুটি প্রজাতির মশার বংশবৃদ্ধি ঘটে। ঢাকার মোট মশার প্রায় ৯৯ শতাংশই জলাবদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা যদি জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করতে পারি, তাহলে মশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বাকি অল্পসংখ্যক মশা বিভিন্ন পাত্রে জন্ম নেয়, যার মধ্যে এডিস মশাও রয়েছে।”

কবিরুল বাশার বলেন,“সম্প্রতি আমাদের একটি ফটোকার্ড ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল ঢাকায় এক ঘণ্টায় একজন মানুষকে ৮৫০টি মশা কামড়াতে পারে। এই ভিডিও সেই দাবিরই প্রমাণ।”

নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি একেএম শহিদ উদ্দিন, বায়ুমণ্ডলী দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং স্থপতি খালিদ মাহমুদ শাহীন।

ঢাকা/রায়হান/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়