ঢাকা     শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪৩৩ || ২০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিসিবিতে ফ্যামিলি কার্ড ও দলীয় কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে: তুষার

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১২, ৫ জুন ২০২৬  
বিসিবিতে ফ্যামিলি কার্ড ও দলীয় কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে: তুষার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলছেন, “বিসিবিতে ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড ও দলীয় কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক, সাংস্কৃতিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মতো ক্রিকেট বোর্ডও এখন দলীয়করণের শিকার।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে স্পোর্টস সেল আয়োজনে আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচন সম্পর্কে দলটির সামগ্রিক পর্যালোচনা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

তিনি বলেন, “বিসিবি নির্বাচন দেশের ক্রিকেটে একটি নতুন কলঙ্ক হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অবিলম্বে বিসিবি সংস্কারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।”

সারোয়ার তুষার বলেন, “দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ক্রিকেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে ক্রিকেটকে ধ্বংস করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আসন্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নির্বাচন ২০১৪ সালের আওয়ামী লীগের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনের কাঠামোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।”

বাংলাদেশ ক্রিকেটের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, সবই বিএনপি সরকার করেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক বছরে যেটুকু দখলদারত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল, বিএনপি সরকার মাত্র তিন মাসের মধ্যে তার চেয়েও দ্রুতগতিতে ক্রিকেটকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।”

এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, “বিসিবিকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা কাজ করছে, যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং ভারতের প্রভাবশালী মহল জড়িত।”

তিনি অভিযোগ করেন, “ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির নেতা অমিত শাহর ছেলে জয় শাহর প্রচ্ছন্ন সমর্থনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

এনসিপির এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, “বিসিবির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকা এবং বিভিন্ন পদে নির্ধারিত প্রার্থীদের আগাম নিশ্চিত করে দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবালের সমালোচনা জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের সময় গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং এখন বিএনপির সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।”

তুষার অভিযোগ করেন, “সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণের বাইরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।”

তাঁর ভাষ্য, “বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং কাউন্সিলর ও পরিচালক পদেও দলীয় বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে।”

তিনি বলেন, “এমনকি বিএনপির পদধারী ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে বিসিবি নির্বাচনের প্রার্থী এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কাউন্সিলরসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ৭৫ জনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও স্পোর্টস সেল সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/রায়হান/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়