বিএনপিকে সারোয়ার তুষার
‘এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা না বলে এক লাখ করে দেখান’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, “বিএনপি সরকার এক কোটি কর্মসংস্থান করার কথা বলছে, কিন্তু আপনারা আগে এক লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করে দেখান। আমাদের জিডিপির ব্যাপারে একটা প্রচলিত কথা হচ্ছে, এটা একটা জবলেস ইকোনমি তৈরি করে। বিএনপি এটাকে জবলেস ইকোনমি থেকে জব লস ইকোনমিতে নিয়ে যাবে।”
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির ‘ছায়া বাজেট কমিটি’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির চলমান কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করে সরোয়ার তুষার বলেন, “তারা খাল খনন কর্মসূচি করছে। এই কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ২০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে; গাছগুলো বিক্রি করছেন বিএনপির নেতারা। অন্যদিকে একটি খালে ইতোমধ্যে পানিপ্রবাহ আছে, খাল খননের জন্য সেটিতে বাঁধ দিয়ে সেচে কোদালের কোপ দেওয়া হয়েছে।”
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে এনসিপির এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, “আমাদের এবারের বাজেট রেকর্ড ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে। তার মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হচ্ছে পরিচালন ব্যয়। যার সোজা অর্থ হচ্ছে আমলাদের চা-নাস্তা, গাড়ি, তাদের যে ফ্যাসিলিটিজ, আরাম-আয়েশ - সেগুলোর জন্য খরচ বাড়ছে এবং এটা আল্টিমেটলি দিতে হবে বাংলাদেশের জনগণকে।”
তিনি আরো বলেন, “বাজেট নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো আগ্রহ নেই। আলটিমেটলি বাজেট হয়ে দাড়ায় গরিব হঠাও। তারা অর্থনীতির যে পরিকল্পনা করেছে, ইতোমধ্যে আইএমএফের লোন পায়নি। ফিচ রেটিংয়ে তারা নিচের দিকে নেমে গেছে, অর্থাৎ ফিচ রেটিংয়ের আউটলুকে বাংলাদেশ নেগেটিভ এসেছে। যার মধ্য দিয়ে সামনের বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের একটা মারাত্মক ইমপ্যাক্ট তৈরি হতে যাচ্ছে।”
আইএমএফের লোন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা লোন পাননি কারণ হচ্ছে আপনারা এনবিআর সংস্কার করেননি। আপনারা ব্যাংকিং খাতে পুরোনো লুটেরাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। এস আলমকে মাসুদ নামে ফিরিয়ে আনার জন্য আপনারা ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন, এ কারণে আপনাদেরকে লোন দেয়নি।”
সভাপতির বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আমাদের বাজেট প্রণয়নের সময় পলিসিগত সংকট হয়। কারণ সরকারের কাছে যথাযথ তথ্য থাকে না। আমাদের দেশে বাজেট প্রণয়নের সময় স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে মোট বাজেটের ৫ শতাংশ বলা হয়। কিন্তু মোট বাজেটের ৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ এক কথা নয়।”
তিনি আরো বলেন, “প্রতিবার আমাদের বাজেট হলে কিছু পত্রিকা সাহস করে নিউজ করে যে ‘গণবিরোধী বাজেট’। এবছর যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলের নেতার স্ত্রী ডাক্তার, ফলে এবার স্বাস্থ্যখাতে বড় বরাদ্দ থাকবে- এমনটাই প্রত্যাশা থাকবে।”
‘স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা’ শিরোনামের এই সেশনটি সঞ্চালনা করেন নাভিদ নওরোজ। এতে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও গবেষক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ডা. জাহিদুল বারী এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তির নির্বাহী সদস্য আমজাদ হোসেন।
ঢাকা/রায়হান/ফিরোজ
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী