ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩২ || ৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বন্দীদের স্বজনদের ভোগান্তি কমাতে কাশিমপুর কারাগারে গলফকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
বন্দীদের স্বজনদের ভোগান্তি কমাতে কাশিমপুর কারাগারে গলফকার

কাশিমপুর কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে গলফকার।

কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের ভোগান্তি কমাতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ। কারা কল্যাণ তহবিল থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি আধুনিক গলফকার (ছোট বৈদ্যুতিক যান) ক্রয় করে তা চালু করা করেছেন তারা। ইতোমধ্যে এই সেবাটি দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটক (আরপি গেইট) থেকে সাক্ষাৎ কক্ষের দূরন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দিতে নানাবিধ ভোগান্তি পোহাতে হয় আগত স্বজনদের। বিশেষ করে নারী, শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য ভোগান্তির মাত্রা ছিল আরো বেশি। অনেকেই রিকশার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতেন, আবার অনেক সময় কোনো যানবাহন না পেয়ে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই যেতে হতো। এই সুযোগে কিছু অসাধু রিকশাচালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। 

আরো পড়ুন:

নতুন চালু হওয়া গলফকার সেবা সেই চিত্র অনেকটাই বদলে দিয়েছে। এখন দর্শনার্থীরা সহজেই এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎ স্থানে পৌঁছাতে পারছেন। ফলে  সময় যেমন সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি কমেছে শারীরিক কষ্টও। 

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের কষ্ট কমানো। পাশাপাশি সেবাকে সহজলভ্য করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারাবন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রক্রিয়াকে আরো মানবিক, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ।

দর্শনার্থী ও বন্দীর স্বজনরা জানান, কাশিমপুর এই কারাগারের মধ্যে আলাদা আলাদা চারটি কারাগার রয়েছে। প্রতিদিন শতশত মানুষ আসেন বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। পায়ে হেঁটে চলাচল কষ্ট, তাছাড়া রিকশাভাড়াও ছিল বেশি। গলফকার চালু করায় ভোগান্তি কমে গেছে৷ এখন মূল গেইট স্বজনদের নিয়ে সাক্ষাৎ কক্ষে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগটি সবার পছন্দ হয়েছে। 

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, “স্বজনদের কষ্ট লাঘব করার জন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা। মোট চারটি গলফকার কেনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা আরো জনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।” 

ঢাকা/রেজাউল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়