‘হিটস্ট্রোক’ এর ঝুঁকি কখন বেশি?
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
অনেকেই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে হিটস্ট্রোকের জন্য দায়ী করেন। কিন্তু রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অজয় চৌহানের মতে, ‘‘তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও বিপজ্জনক তাপজনিত অসুস্থতা শুরু হতে পারে—বিশেষ করে যদি শরীরে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং খারাপ বায়ু চলাচল থাকে।’’
ডা. চৌহান বলেন, “আর্দ্রতা, পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক পরিশ্রম থাকলে ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।”
বিশেষ করে যারা খোলা জায়গায় কাজ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে কম বাতাস চলাচলকারী পরিবহনে ভ্রমণ করেন বা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি।
যেসব প্রাথমিক লক্ষণ মানুষ প্রায়ই উপেক্ষা করেন
হিটস্ট্রোকের বড় সমস্যা হলো, মানুষ অনেক সময় এর প্রাথমিক সতর্কসংকেতগুলো গুরুত্ব দেন না। এশিয়ান হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. প্রাঞ্জিত ভৌমিক বলেন, ‘‘শরীর সাধারণত বিপদের আগে কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়।’’
তিনি আরও বলেন, “প্রচুর ঘাম হওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমিভাব এবং পেশিতে টান—এসবই হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ। অনেকেই এগুলোকে গরমকালের স্বাভাবিক অস্বস্তি মনে করেন, কিন্তু আসলে এগুলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হওয়ার ইঙ্গিত।”
ডা. চৌহানও একই কথা বলেন। তার মতে, এসব উপসর্গ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। অবস্থা খারাপ হওয়ার আগেই দ্রুত শরীর ঠান্ডা করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
কেন ঐতিহ্যবাহী গরমের পানীয় বেশি কার্যকর
ডা. ভৌমিক বলেন, “শরীরকে পুনরায় আর্দ্র রাখতে শুধু পানি নয়, ঘামের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া লবণ ও ইলেকট্রোলাইটও পূরণ করা জরুরি।”
এ কারণেই ঘোল, লেবুর শরবত বা আমপান্নার মতো পানীয়গুলো গরমে বিশেষ উপকারী। ডা. চৌহান জানান, লবণযুক্ত পানীয় যেমন ছাছ বা আমপান্না শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে, পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে প্রাকৃতিক শীতলতা তৈরি করে। তার মতে, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা বা বাইরে কাজ করার সময় এসব পানীয় সাধারণ পানির চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
খারাপ বায়ু চলাচল কেন বিপজ্জনক
ডা. চৌহান বলেন, ‘‘বাতাস চলাচল কম হলে শরীরের ঘাম ঠিকভাবে শুকাতে পারে না। অথচ ঘাম শুকানোর মাধ্যমেই শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখে।’’
ডা. ভৌমিক আরও বলেন, “শারীরিক পরিশ্রম শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে যদি খারাপ বায়ু চলাচল যোগ হয়, তাহলে মাঝারি তাপমাত্রাও শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। এ কারণেই মানুষ বুঝে ওঠার আগেই হিটস্ট্রোক হতে পারে।”
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস
ঢাকা/লিপি
গাজীপুরের কাপাসিয়া ঘর থেকে ৫ জনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ