ঢাকা     শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩ || ২০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচেনি কেউ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৫৬, ৮ মে ২০২৬  
বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে ৭ সন্তানের জন্ম, বাঁচেনি কেউ

ফাইল ফটো

বিয়ের ১০ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হন নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের সালমা বেগম। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার গর্ভে ছয়টি সন্তানের কথা বলা হলেও তিনি স্বাভাবিকভাবে সাত সন্তান জন্ম দেন। অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেওয়া চার ছেলে ও তিন মেয়ের কাউকেই বাঁচানো যায়নি। অসুস্থ অবস্থায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই গৃহবধূ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যার সঙ্গ ১০ বছর আগে সালমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মহসিন দীর্ঘ ৭ বছর সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। তিন বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি। বর্তমানে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাঁচ বছর আগে সালমা একবার
সন্তান সম্ভবা হয়েছিলেন। কিন্তু অনাকাঙিক্ষত গর্ভপাতের কারণে বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি আবারো সন্তান সম্ভবা হন। 

আরো পড়ুন:

চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন, সালমার গর্ভে ছয়টি সন্তান রয়েছে। সোমবার (৪ মে) বিকেলে সালমা বেগমের পেটব্যথা শুরু হলে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথম সন্তান প্রসব করেন তিনি। নবজাতকটি কিছুক্ষণ পর মারা গেলে মহসিনের বাবা মৃতদেহটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

এরপর রাতেই সালমা দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন এবং কিছুক্ষণ পর সেই শিশুটিরও মৃত্যু হয়। ওই রাতেই যশোরের একটি কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়। বুধবার (৬ মে) রাতে একে একে আরো ৫টি সন্তান জন্ম দেন সালমা বেগম। জন্মের কিছুক্ষণ পর তার এই সন্তানরাও মারা যায়।

নবজাতকদের দাদা আব্দুল লতিফ মোল্যা বলেন, “বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে কালুখালী গ্রামে পারিবারিক কবর স্থানে পাশাপাশি ছয়টি সন্তানকে কবর দেওয়া হয়েছে।” 

তিনি বলেন, “বিয়ের ১০ বছর পর নাতিনদের মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম। আল্লাহ আমাদের খুশি দিলেও তা আর সইল না। এই কষ্ট রাখার জায়গা নেই।”

দাদি মঞ্জুরা বেগম জানান, নাতিনদের মুখ দেখার আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ছিলেন তারা, কিন্তু মুহূর্তেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মন্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। 

তিনি বলেন, “তার সন্তানগুলো অপরিপক্ব অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সালমার পানি ভেঙে যায়। পাঁচ মাসে ২০০ গ্রাম করে ওজন হয়েছিল শিশুগুলোর। সবারই হার্টবিট ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।”

ঢাকা/শরিফুল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়